ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর এক বিস্ময়কর ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীন এখন থেকে ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে নিজের “বড় গর্ব” বলে উল্লেখ করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।
যুদ্ধবিরতির পর নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের সংঘর্ষের পর ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প Truth Social-এ লেখেন, “চীন এখন ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে। আশা করি তারা আমেরিকা থেকেও প্রচুর তেল কিনবে। এই সিদ্ধান্ত সম্ভব করতে পারা আমার বড় গর্ব।”
মার্কিন নীতিতে বিপরীত সুর
এই ঘোষণাটি ট্রাম্পের আগের “ম্যাক্সিমাম প্রেসার” নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে ইরানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তেল রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। চীন, যেটি ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা, এতদিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল আমদানি করছিল। এখন ট্রাম্পের এই ঘোষণায় সেই আমদানিকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
বাজারে প্রভাব ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের মতো মার্কিন মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ তারা ইরানের তেল রপ্তানিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখে এসেছে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ শুধু ইরান-চীন সম্পর্ক নয়, বরং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দিকেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জ্বালানি বাজারে পরিবর্তনের সর্বশেষ আপডেট জানতে।
