গুয়াহাটি বিমানবন্দরে দ্বিগুণ বৃদ্ধি, প্রথম ত্রৈমাসিকে যাত্রী সংখ্যা ছাড়ালো ১৮ লক্ষ

উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গুয়াহাটি লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিমানবন্দরটি ১৮ লক্ষেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করে দ্বিগুণ অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে, যা দেশের এই অঞ্চলের বিমান চলাচল ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলেছে।

এই সময়সীমায় গুয়াহাটি বিমানবন্দর যে হারে যাত্রী পরিবহন করেছে, তা গত বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় প্রায় ১২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধি কেবল অভ্যন্তরীণ বিমানচলাচলেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক সংযোগেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে।


যাত্রী চলাচলের পরিসংখ্যান (Q1 FY 2025-26)

সময়কালমোট যাত্রী সংখ্যাঅভ্যন্তরীণ যাত্রীআন্তর্জাতিক যাত্রীবৃদ্ধির হার (%)
এপ্রিল-জুন ২০২৫১৮,৩২,৬৭৮১৭,৩৪,০১২৯৮,৬৬৬১২.৮%
এপ্রিল-জুন ২০২৪১৬,২৪,৫৪০১৫,৬০,১০০৬৪,৪৪০

উল্লেখযোগ্য যে, আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা ৫৩% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।


গন্তব্য ও বিমানসংখ্যা বৃদ্ধি

গত এক বছরে গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট গন্তব্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কিছু আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য রুট শুরু হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য শহর এবং আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ আরও দৃঢ় হয়েছে।

গন্তব্য (নতুন সংযোজন)বিমানসংখ্যা (সাপ্তাহিক)সংযোগ শুরুর সময়
ঢাকা, বাংলাদেশ৫টিমার্চ ২০২৫
ব্যাঙ্গালোর১৪টিজানুয়ারি ২০২৫
ভুবনেশ্বর৭টিএপ্রিল ২০২৫
ব্যাংকক৩টিমে ২০২৫

কার্গো ও লজিস্টিক পারফরম্যান্স

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ত্রৈমাসিকের শেষে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৪০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

মাসকার্গো হ্যান্ডলিং (মেট্রিক টন)বৃদ্ধির হার
এপ্রিল১,৭৮০১৪%
মে১,৭৪০১২%
জুন১,৮৮০১৯%

পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যাত্রীসেবা

গুয়াহাটি বিমানবন্দরের এই উন্নতির পেছনে বড় অবদান রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নের। বর্তমানে বিমানবন্দরে একটি নতুন এক্সটেন্ডেড টার্মিনাল নির্মাণাধীন, যার ফলে ভবিষ্যতে ঘণ্টায় ৩,০০০ পর্যন্ত যাত্রী পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো:

  • নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নির্মাণ (৭০% কাজ সম্পন্ন)
  • ইন্টেলিজেন্ট ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম স্থাপন
  • মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক চেক-ইন পরিষেবা শুরু
  • ই-বোর্ডিং ও স্মার্ট স্ক্যানিং সিস্টেম চালু

যাত্রী অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও গ্রাহক সন্তুষ্টি

পর্যটক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই যাত্রী পরিষেবায় উন্নতি লক্ষণীয়। এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) অনুসারে যাত্রী সন্তুষ্টির রেটিং ৪.৫/৫-এ পৌঁছেছে, যা পূর্বের ৩.৯/৫ স্কোর থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি।


সামাজিক ও পরিবেশগত দিক

গুয়াহাটি বিমানবন্দর ২০২৫-এ ‘গ্রিন এয়ারপোর্ট ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে, যার আওতায় নিচের পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

  • সৌরবিদ্যুৎ চালিত রানওয়ে লাইটিং
  • বৃষ্টির জল সংরক্ষণ প্রকল্প
  • প্লাস্টিকমুক্ত জোন ঘোষণা
  • বায়োডিগ্রেডেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

পর্যটনের উপর প্রভাব

গুয়াহাটি বিমানবন্দরের যাত্রী বৃদ্ধি আসামের পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করছে। বিশেষত কাজিরঙ্গা, মাজুলি, কামাখ্যা মন্দির, চেরাপুঞ্জি ও শিলংয়ের মতো স্থানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পর্যটন স্থানআগত পর্যটক (Q1 2025-26)বৃদ্ধি হার (%)
কামাখ্যা মন্দির৭.৪ লক্ষ২০%
কাজিরঙ্গা১.৮ লক্ষ১৮%
শিলং৪.২ লক্ষ১৫%
মাজুলি৬৫,০০০১২%

রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া

অসম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিমানবন্দরের এই অগ্রগতিকে “উত্তর-পূর্ব ভারতের এক নতুন যুগের সূচনা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আরও বাড়াতে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করবে।


চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

যদিও যাত্রী বৃদ্ধি ও উন্নয়ন আশাব্যঞ্জক, কিন্তু পরিকাঠামো পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সুবিধা পেতে কিছুটা সময় লাগবে। পার্কিং সমস্যা, বিমান নির্ধারণ বিলম্ব এবং কিছু অভ্যন্তরীণ গেটে অতিরিক্ত চাপ দেখা দিচ্ছে।

তবে AAI কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বেশিরভাগ সমস্যা সমাধান করে এয়ারপোর্টকে পুরোপুরি আধুনিক রূপে রূপান্তর করা হবে।


উপসংহার

গুয়াহাটি বিমানবন্দর উত্তর-পূর্ব ভারতের বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল হয়ে উঠছে। যাত্রী ও পণ্যের দ্বিগুণ বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পর্যটনে প্রভাব—সব মিলিয়ে এই এয়ারপোর্ট আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা নেবে তা নিশ্চিত।


Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সংস্থা, সরকারী তথ্য ও সংবাদ সম্মেলনের বিবৃতির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। পাঠকদের নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *