পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তদন্ত আরও গভীর করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সম্প্রতি সংস্থাটি প্রায় ₹৬৩৬.৮৮ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিলাসবহুল বাংলো, চা-বাগান, কারখানা ও দামি গাড়ি। এই সম্পত্তিগুলি মূলত ঘুষের টাকায় কেনা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
কীভাবে গড়ে উঠল দুর্নীতির সাম্রাজ্য
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রুপ C ও D পদে নিয়োগের নামে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করা হয়েছিল। এই অর্থ ব্যবহার করে মধ্যস্থতাকারী প্রসন্ন কুমার রায় ও তার সহযোগীরা চা-বাগান, বাংলো ও অন্যান্য সম্পত্তি কিনেছিলেন। জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে Samsing Organic Tea, Yangtong Organic Tea ও Bamandanga Tea Estate-এর নাম।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে “সম্পূর্ণভাবে কলুষিত ও প্রতারণাপূর্ণ” বলে মন্তব্য করেছে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ২৫,০০০-এর বেশি নিয়োগ বাতিল হয়েছে। এই রায়ের পর ইডি তদন্তে গতি আনে এবং একাধিক সম্পত্তি জব্দ করে।
রাজনীতিক ও আমলাদের জড়িত থাকার অভিযোগ
এই কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তার ঘনিষ্ঠ আরপিতা মুখার্জি, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য সহ একাধিক তৃণমূল নেতা ও সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। ইডির দাবি, এই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন অভিযুক্তরা।
চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
বিকাশ ভবনের সামনে মাসের পর মাস ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কেউ কেউ প্রকৃতভাবে যোগ্য হয়েও চাকরি পাননি, আবার কেউ ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন—এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা ন্যায়বিচার দাবি করছেন।
🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির সর্বশেষ আপডেট জানতে ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে।
