জুবিন গার্গের শেষকৃত্য ২৩ সেপ্টেম্বর, চিরনিদ্রার ঠিকানা জোরাবাটের দিচাং রিসর্টের পাশে

অসমের সাংস্কৃতিক জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র জুবিন গার্গের শেষকৃত্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হবে। তাঁর চিরনিদ্রার স্থান নির্ধারিত হয়েছে জোরাবাটের দিচাং রিসর্টের পাশে, কামারকুচি এলাকায়। অসম সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমি বরাদ্দ করেছে যেখানে গার্গের স্মৃতিস্তম্ভও নির্মিত হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাঁর অবদানকে চিরস্থায়ী করে রাখবে।

জুবিন গার্গের মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় ঘটে। তাঁর দেহ ২০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে গুয়াহাটিতে আনা হয়। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর সারুসাজাই স্টেডিয়ামে তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্য মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

জুবিন গার্গের শেষযাত্রা – সময়সূচি ও স্থান

তারিখকার্যক্রমস্থান
২০ সেপ্টেম্বরমরদেহ দিল্লিতে পৌঁছায়ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
২১–২২ সেপ্টেম্বরসর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনসারুসাজাই স্টেডিয়াম, গুয়াহাটি
২৩ সেপ্টেম্বরশেষকৃত্য ও দাহ সম্পন্ন হবেকামারকুচি, দিচাং রিসর্ট সংলগ্ন এলাকা

অসম সরকার জানিয়েছে, জুবিন গার্গের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তাঁর পদচিহ্ন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ তাঁর ভক্তদের সঙ্গে এক চিরন্তন বন্ধন গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদান সম্পর্কে অনুপ্রাণিত করবে।

জোরহাটবাসীর আবেদনের পরেও শেষকৃত্যের স্থান হিসেবে গুয়াহাটি নির্ধারিত হয়েছে, কারণ গার্গের পরিবারের মতামত এবং তাঁর পিতার স্বাস্থ্যগত কারণে জোরহাটে শেষকৃত্য সম্ভব নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, জোরহাটেও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে এবং তাঁর অস্থি সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।

জুবিন গার্গ স্মৃতিস্তম্ভ প্রকল্প – পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য

উপাদানবিবরণউদ্দেশ্য
জমির পরিমাণপ্রায় ১০ বিঘাস্মৃতিস্তম্ভ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ
স্থাপত্য পরিকল্পনাপদচিহ্ন সংরক্ষণ, স্মৃতিস্তম্ভ, উদ্যানপর্যটন ও সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র
প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানঅসম সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনরক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন
উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময়২০২6 সালের প্রথমার্ধজুবিনের জন্মদিনে উদ্বোধনের পরিকল্পনা

সিঙ্গাপুর সরকার ইতিমধ্যে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ডুবে যাওয়া’ উল্লেখ করে মৃত্যুসনদ প্রদান করেছে। তবে অসম সরকার জানিয়েছে, এটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টের বিকল্প নয় এবং চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

জুবিন গার্গের মৃত্যুতে অসমজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর শেষকৃত্যে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশিত, যার জন্য প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেছেন, “জুবিন শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসমের আত্মা। তাঁর শেষযাত্রা যেন সম্মানজনক ও স্মরণীয় হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।”

জুবিন গার্গ – জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিভাগতথ্য
জন্ম১৮ নভেম্বর ১৯৭২, জোরহাট, অসম
পেশাগায়ক, সুরকার, অভিনেতা, পরিচালক
জনপ্রিয় গান‘যা কি তুই’, ‘মায়াবিনী’, ‘মুকলি’
চলচ্চিত্র‘মিশন চীন’, ‘তুমি মোরে ভালে পাও’
পুরস্কারঅসম রত্ন, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার

অসম সরকার ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে, যা ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও উৎসব বাতিল করা হয়েছে।

জুবিন গার্গের শেষকৃত্য শুধু একটি ব্যক্তিগত বিদায় নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর সৃষ্টিশীলতা, সংগ্রাম ও অসমের প্রতি ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সরকারি বিবৃতি, সংবাদ সংস্থা ও জনসাধারণের মন্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি কোনও রাজনৈতিক মতামত বা ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। সমস্ত উদ্ধৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সংস্থার নামে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য ও সম্পাদনা উদ্দেশ্যে প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *