“তিপ্রাসা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনবেন অমিত শাহ”—আস্থা প্রকাশ প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার

ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করে তিপ্রা মোথা পার্টির (TMP) প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা ঘোষণা করেছেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শীঘ্রই তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসবেন। ২৭ অক্টোবর ২০২৫ রবিবার আগরতলার রবীন্দ্র ভবনে TMP-র এক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রদ্যোত বলেন, “আমি অমিত শাহজির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রাখি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, আমাদের যন্ত্রণা বুঝেছেন এবং আমি বিশ্বাস করি, তিনি তিপ্রাসা জনগণের জন্য একটি স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসবেন।”

🗓️ তিপ্রাসা ইস্যু: ঘটনাপঞ্জি

তারিখঘটনা
মার্চ ২০২৪TMP, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর
জুলাই ২০২৫TMP দাবি তোলে চুক্তির বাস্তবায়ন দ্রুত করার
অক্টোবর ২০২৫প্রদ্যোতের বক্তব্যে নতুন আশার সঞ্চার

এই চুক্তির মাধ্যমে তিপ্রাসা জনগণের সাংবিধানিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক স্বীকৃতির পথ সুগম হওয়ার কথা ছিল।

🧭 তিপ্রাসা সমস্যার মূল দাবি

দাবিবিবরণ
সাংবিধানিক স্বীকৃতিSixth Schedule-এর আওতায় স্বশাসিত অঞ্চল গঠন
ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণকোকবরক ভাষার উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি
ভূমি ও সম্পদের অধিকারআদিবাসী জনগণের ঐতিহ্যবাহী জমির উপর অধিকার রক্ষা
প্রশাসনিক স্বশাসনADC-র ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো

এই দাবিগুলি দীর্ঘদিন ধরে TMP ও তিপ্রাসা জনগণের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে।

🗣️ প্রদ্যোতের বক্তব্যের মূল অংশ

বক্তব্য অংশপ্রেক্ষাপট
“অমিত শাহজির প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে”কেন্দ্রের সঙ্গে TMP-র সম্পর্কের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা
“তিনি আমাদের কথা শুনেছেন”ত্রিপাক্ষিক চুক্তির পরবর্তী ধাপের ইঙ্গিত
“স্থায়ী সমাধান আসবে”রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তির আশা

প্রদ্যোতের বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আশাবাদের সুর স্পষ্ট।

🏛️ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

দল/নেতাপ্রতিক্রিয়া
তিপ্রা মোথা“আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই”
বিজেপি“কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আলোচনা চলছে”
কংগ্রেস ও সিপিএম“আদিবাসীদের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে”

বিরোধীরা এই ইস্যুকে ঘিরে রাজনীতিকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

📌 উপসংহার

প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার বক্তব্যে তিপ্রাসা সমস্যার সমাধান নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। অমিত শাহের নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার যদি TMP-র সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যায় এবং ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, তবে তিপ্রাসা জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এখন দেখার বিষয়, এই আশাবাদ বাস্তবে কতটা রূপ নেয়।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত সংবাদ ও সরকারি বিবৃতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি কোনো রাজনৈতিক মতামত বা আইনি পরামর্শ নয়। সকল তথ্য শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *