ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা, বিকাশ দেববর্মা বললেন ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’

ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা ও আদিবাসী উন্নয়নের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরায় একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই ঘোষণাকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণ ও হস্তশিল্পমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবের পথে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি হবে সংস্কৃতি, গবেষণা ও উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত।”

এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে। পাশাপাশি, গবেষণা, ভাষা সংরক্ষণ, এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


🧭 বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার মূল তথ্য ও সময়রেখা

বিষয়বিবরণ
প্রকল্প নামত্রিপুরা কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়
অনুমোদন তারিখ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
স্থাপন স্থানখুমলুং, ত্রিপুরা
প্রস্তাবিত বাজেট₹১,২০০ কোটি (প্রাথমিক পর্যায়ে)
নির্মাণ শুরুজানুয়ারি ২০২৬
প্রথম শিক্ষাবর্ষ শুরুজুলাই ২০২৭
অধীনস্থ মন্ত্রণালয়শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার

🔍 বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো ও পরিকল্পনা

বিভাগ / অনুষদপ্রস্তাবিত কোর্সলক্ষ্য
আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্যককবরক, হালাম, চাকমা, মিজো ভাষাভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণা
সামাজিক বিজ্ঞানসমাজবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, ইতিহাসআদিবাসী সমাজের উন্নয়নমূলক গবেষণা
পরিবেশ ও বনবিদ্যাপরিবেশ বিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্যটেকসই উন্নয়ন ও বন সংরক্ষণ
শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণB.Ed, M.Edআদিবাসী অঞ্চলে মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তার
স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যজনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য প্রশাসনস্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিষেবা উন্নয়ন

📉 বিকাশ দেববর্মার মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ত্রিপুরা সরকারের তরফে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের আদিবাসী সমাজের আত্মপরিচয় ও উন্নয়নের প্রতীক। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি হবে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।”

রাজনৈতিক নেতা / বিশ্লেষকমন্তব্য
বিকাশ দেববর্মা“ঐতিহাসিক মাইলফলক, আদিবাসী সমাজের বিজয়”
রঞ্জিত দেববর্মা (TTAADC)“আদিবাসী যুবকদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ”
শিক্ষাবিদ ড. রূপম ত্রিপুরা“ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ”

📦 বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার সম্ভাব্য প্রভাব

ক্ষেত্রসম্ভাব্য পরিবর্তন
শিক্ষাউচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, গবেষণা উন্নয়ন
অর্থনীতিস্থানীয় কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন
সংস্কৃতিআদিবাসী ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ
সমাজনারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনস্থানীয় সমস্যার সমাধানে গবেষণা

🔥 কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ

  • আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র: রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা সহজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
  • ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ: ককবরকসহ অন্যান্য আদিবাসী ভাষার গবেষণা ও পাঠক্রম চালু হবে।
  • স্থানীয় উন্নয়ন: বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র করে ব্যবসা, হোস্টেল, পরিবহন ইত্যাদি খাতে উন্নয়ন হবে।
  • নারী ক্ষমতায়ন: নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

📅 আগামী গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

কার্যক্রমসময়সীমা
স্থাপনা পরিকল্পনা চূড়ান্তকরণডিসেম্বর ২০২৫
নির্মাণ কাজ শুরুজানুয়ারি ২০২৬
শিক্ষক নিয়োগএপ্রিল–মে ২০২৭
ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুজুন ২০২৭
প্রথম ক্লাসজুলাই ২০২৭

📌 উপসংহার

ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার নেতৃত্বে এই উদ্যোগ আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে। আগামী দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ত্রিপুরা নয়, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের আদিবাসী সমাজের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি, সংবাদ প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানমূলক এবং কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *