ত্রিপুরার গ্রামীণ প্রশাসনে এক নতুন মাইলফলক ছুঁল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের কোনো পঞ্চায়েতই গ্রেড-D-তে পড়েনি, বরং ৪২টি পঞ্চায়েত গ্রেড-A অর্জন করেছে। এই তথ্য সম্প্রতি আগরতলায় আয়োজিত এক প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় প্রকাশিত হয়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এখন স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জনমুখী পরিষেবায় দেশের মধ্যে অন্যতম।”
এই গ্রেডিং পদ্ধতি রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অংশ, যেখানে বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে পঞ্চায়েতগুলিকে A থেকে D পর্যন্ত গ্রেড দেওয়া হয়। গ্রেড-A পাওয়া পঞ্চায়েতগুলিকে বিশেষ পুরস্কার ও অনুদান দেওয়া হবে, যাতে তারা আরও উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারে।
🧭 পঞ্চায়েত গ্রেডিং পর্যালোচনার ফলাফল
| গ্রেড | পঞ্চায়েত সংখ্যা | মানদণ্ডের ভিত্তি |
|---|---|---|
| গ্রেড-A | ৪২ | ৯০% বা তার বেশি স্কোর |
| গ্রেড-B | ৭৫ | ৭০–৮৯% স্কোর |
| গ্রেড-C | ৩৮ | ৫০–৬৯% স্কোর |
| গ্রেড-D | ০ | ৫০%-এর নিচে স্কোর |
এই ফলাফল রাজ্যের ১৫৫টি পঞ্চায়েতের মধ্যে মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
🔍 গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড ও মূল্যায়ন পদ্ধতি
ত্রিপুরা সরকারের পঞ্চায়েত গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে কয়েকটি মূল সূচকের ভিত্তিতে:
- পরিষেবা প্রদান দক্ষতা (জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য)
- ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ
- সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন
- আয় ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা
- জনসাধারণের অভিযোগ নিষ্পত্তি
| মূল্যায়ন সূচক | স্কোরের পরিমাণ (%) | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| পরিষেবা প্রদান দক্ষতা | ৩০% | মৌলিক নাগরিক সুবিধা |
| ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ | ২০% | প্রশাসনিক স্বচ্ছতা |
| সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন | ২০% | সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন দক্ষতা |
| আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা | ১৫% | অর্থনৈতিক জবাবদিহি |
| অভিযোগ নিষ্পত্তি | ১৫% | জনমুখী প্রশাসন |
এই সূচকগুলির ভিত্তিতে প্রতিটি পঞ্চায়েতকে স্কোর দেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী গ্রেড নির্ধারণ করা হয়।
📉 মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রশাসনিক বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ফলাফল প্রমাণ করে, ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এখন আধুনিক ও দক্ষ। আমরা চাই প্রতিটি পঞ্চায়েত গ্রেড-A অর্জন করুক। এজন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।”
| প্রশাসনিক বার্তা | পদক্ষেপ / পরিকল্পনা |
|---|---|
| গ্রেড-A পঞ্চায়েতকে পুরস্কার | ₹১০ লক্ষ পর্যন্ত অনুদান |
| গ্রেড-B ও C পঞ্চায়েতকে সহায়তা | প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন |
| গ্রেড-D না থাকার কারণ | পূর্ববর্তী মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | ২০২৬ সালের মধ্যে ১০০+ গ্রেড-A পঞ্চায়েত |
তিনি আরও বলেন, “ত্রিপুরা এখন শুধু শহর নয়, গ্রামেও উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠছে।”
🔥 গ্রেড-A পঞ্চায়েতের সাফল্যের উদাহরণ
| পঞ্চায়েত নাম | জেলা | বিশেষ সাফল্য |
|---|---|---|
| চন্দ্রপুর | পশ্চিম ত্রিপুরা | ১০০% বিদ্যুৎ সংযোগ, ডিজিটাল রেকর্ড |
| বক্সনগর | সিপাহিজলা | স্বাস্থ্য ক্যাম্প, নারী সশক্তিকরণ প্রকল্প |
| ধলাইচড়া | ধলাই | জল সংরক্ষণ প্রকল্প, কৃষি উন্নয়ন |
| কুমারঘাট | উত্তর ত্রিপুরা | আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা, অভিযোগ নিষ্পত্তি |
এই পঞ্চায়েতগুলোকে মডেল পঞ্চায়েত হিসেবে তুলে ধরা হবে এবং অন্যান্য পঞ্চায়েতকে তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া হবে।
🧠 বিশ্লেষকদের মতামত
| বিশ্লেষক নাম | পদবি | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ডঃ রাকেশ সিনহা | প্রশাসনিক বিশ্লেষক | “ত্রিপুরার পঞ্চায়েত গ্রেডিং পদ্ধতি অন্যান্য রাজ্যের জন্য মডেল” |
| প্রফেসর মীরা আইয়ার | সমাজবিজ্ঞানী | “গ্রেড-A পঞ্চায়েতের সংখ্যা বৃদ্ধি সামাজিক উন্নয়নের প্রতিফলন” |
| রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় | স্থানীয় প্রশাসন পর্যবেক্ষক | “গ্রেড-D না থাকা প্রশাসনিক অগ্রগতির ইঙ্গিত” |
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দক্ষতা প্রমাণ করে।
📦 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার
ত্রিপুরা সরকার আগামী দিনে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় আরও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে:
- পঞ্চায়েত ডিজিটাল পোর্টাল
- মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো
- রিয়েল-টাইম প্রকল্প ট্র্যাকিং
- পঞ্চায়েত কর্মীদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ
| প্রযুক্তি / উদ্যোগ | লক্ষ্য / প্রভাব |
|---|---|
| ডিজিটাল পোর্টাল | রেকর্ড সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা |
| মোবাইল অ্যাপ | জনসাধারণের অংশগ্রহণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি |
| প্রকল্প ট্র্যাকিং | প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ |
| অনলাইন প্রশিক্ষণ | কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি |
এই উদ্যোগগুলো পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী ও দক্ষ করে তুলবে।
📌 উপসংহার
ত্রিপুরার পঞ্চায়েত গ্রেডিং পর্যালোচনায় গ্রেড-D না থাকা এবং ৪২টি পঞ্চায়েতের গ্রেড-A অর্জন রাজ্যের প্রশাসনিক অগ্রগতির প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জনসেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও পঞ্চায়েতকে গ্রেড-A-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রাজ্যকে ‘এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
—
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিভিন্ন সরকারি বিবৃতি ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং কোনো রাজনৈতিক, আইনগত বা নীতিগত পরামর্শ নয়।
