ত্রিপুরায় গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিপর্যস্ত, সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকতে বললেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ

ত্রিপুরা রাজ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ জনগণকে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ সৌর শক্তির ওপর নির্ভর করছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন উৎপাদন কমছে, কারণ গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে”।

⚡ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট: কোন কেন্দ্র কত উৎপাদন করছে

মন্ত্রী রতন লাল নাথ ধলাই জেলার দুর্গচৌমুহনীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাজ্যের পাঁচটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। রাজ্যের দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা যেখানে ৩৭০ মেগাওয়াট, তা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে অনুমান।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থাপিত ক্ষমতা (MW)বর্তমান উৎপাদন (MW)ঘাটতি (MW)
পালাটানা726520206
মনারচক1006040
আরসি নগর (NEEPCO)1358055
রোখিয়া6380

রোখিয়া কেন্দ্রটি তার স্থাপিত ক্ষমতার চেয়ে বেশি উৎপাদন করছে, তবে অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর ঘাটতি রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে।

🌞 সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকতে আহ্বান

  • রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে PM সূর্য ঘর প্রকল্প চালু করেছে।
  • এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন।
  • Tripura Electricity Corporation Limited (TSECL) অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেবে, ফলে গ্রাহকরা “এনার্জি বিক্রেতা” হয়ে উঠতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করবে না, বরং মানুষকে আর্থিকভাবে লাভবান করবে। সবাইকে এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে”।

🧮 বিদ্যুৎ চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বছরদৈনিক চাহিদা (MW)পরিকল্পিত উৎপাদন (MW)মন্তব্য
২০২৫৩৭০৪৫০বর্তমান চাহিদা পূরণে সংকট
২০২৭৫৫০৬০০সৌর প্রকল্পের সম্প্রসারণ চলমান
২০৩০৭০০৭৫০হাইব্রিড উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

💧 জলবিদ্যুৎ ও পাম্প স্টোরেজ প্রকল্প

  • গোমতী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
  • ধলাই জেলায় পাম্প স্টোরেজ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

🗣️ মন্ত্রীর বার্তা

  • “গ্যাসের মজুত প্রতিদিন কমছে। আমাদের এখনই বিকল্প শক্তির দিকে যেতে হবে।”
  • “ত্রিপুরা সৌর শক্তিতে আত্মনির্ভর হতে পারে, যদি জনগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।”

📋 প্রশাসনিক উদ্যোগ ও জনসচেতনতা

  • TSECL গ্রাহকদের জন্য সৌর প্যানেল স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
  • জেলা প্রশাসন সৌর প্রকল্পে অংশগ্রহণ বাড়াতে সচেতনতা কর্মসূচি চালাবে।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন-এ সৌর প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা চলছে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণ শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *