ত্রিপুরায় বেকারত্বের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে: সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

ত্রিপুরা রাজ্যে বেকারত্বের হার গত ছয় বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজ্যের বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৭ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৩.২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ সালে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের পরিকল্পিত কর্মসংস্থান নীতি, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

🧭 ছয় বছরে ত্রিপুরার বেকারত্বের হার: পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ

অর্থবছরত্রিপুরার বেকারত্ব হার (%)জাতীয় গড় (%)পরিবর্তনের ধারা
2018–1910.05.8উচ্চ হার, উদ্বেগজনক
2019–203.25.4নাটকীয় পতন
2020–213.24.8স্থিতিশীলতা
2021–223.04.1ধীরে ধীরে উন্নতি
2022–231.43.5উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
2023–241.73.2স্থায়ী নিম্ন হার

এই পরিসংখ্যান Periodic Labour Force Survey (PLFS)-এর তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত হয়েছে, যা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অধীনস্থ।

🔍 কর্মসংস্থানে সরকারি উদ্যোগ: নিয়োগ ও বিকল্প কর্মসংস্থান

ত্রিপুরা সরকার ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সরকারি চাকরির শূন্যপদ পূরণে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেছে। Joint Recruitment Board of Tripura (JRBT)-এর মাধ্যমে Group-C ও Group-D পদে ইতিমধ্যে ৪,৪১৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন। মোট ১৯,৮১০ জন চাকরি পেয়েছেন গত ছয় বছরে।

বিভাগ / সংস্থানিয়োগ সংখ্যানিয়োগের ধরনমন্তব্য
JRBT4,417Group-C ও Group-Dস্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগ
TPSCনিয়মিতবিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগপরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ
TRBT700 (চলমান)Graduate Teacher পদেআবেদন চলমান

এছাড়াও, রাজ্য সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। National Career Service (NCS) স্কিমের আওতায় ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ১০২টি জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ২,২৩১ জন প্রার্থী বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেয়েছেন।

📉 কর্মসংস্থানে বিকল্প উদ্যোগ: যুব সমাজের অংশগ্রহণ

কর্মসূচি / প্ল্যাটফর্মঅংশগ্রহণকারী সংখ্যালক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রমফলাফল
NCS Portal7,010 (Class VIII-passed)জেলা কর্মসংস্থান কেন্দ্রে নিবন্ধনবেসরকারি চাকরির সুযোগ
Job Fair (2018–2025)102টিবিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ2,231 জন চাকরি পেয়েছেন
Skill Development Missionচলমানযুবকদের দক্ষতা উন্নয়নকর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি

ত্রিপুরা সরকার বিভিন্ন ট্রেডে স্কিল ট্রেনিং, হস্তশিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করছে, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

🔥 মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, “আমরা শুধু চাকরি সৃষ্টি করছি না, বরং একটি কর্মমুখী সমাজ গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি যুবক যেন তার যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।”

তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবছরে আরও ৫,০০০ শূন্যপদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নতুন স্কিল হাব চালু করা হবে যাতে যুব সমাজের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

🧠 বিশ্লেষক মতামত ও জনমত

বিশ্লেষক নামভূমিকামন্তব্য
মীরা আইয়ারশ্রমনীতি বিশ্লেষক“ত্রিপুরার কর্মসংস্থান মডেল অন্যান্য রাজ্যের জন্য উদাহরণ হতে পারে।”
রাজীব বংশলঅর্থনীতিবিদ“বেকারত্বের হার কমার পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ।”
ড. রাকেশ সিনহাসমাজবিজ্ঞানী“যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ কর্মসংস্থানে গতি এনেছে।”

জনমত অনুসারে, রাজ্যের যুব সমাজ এখন সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ও উদ্যোক্তা খাতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

📌 উপসংহার

ত্রিপুরা রাজ্যে বেকারত্বের হার কমার পেছনে রয়েছে সরকারের সুপরিকল্পিত কর্মসংস্থান নীতি, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এই ধারা বজায় থাকলে রাজ্য আগামী কয়েক বছরে কর্মসংস্থানে আরও অগ্রগতি অর্জন করবে। যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে ত্রিপুরা এখন কর্মমুখী উন্নয়নের পথে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান ও সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এবং কোনো রাজনৈতিক, আইনগত বা প্রশাসনিক পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *