ত্রিপুরায় শাসনব্যর্থতা ঢাকতে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে বিজেপি: বিরোধী নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ

ত্রিপুরা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকারকে আক্রমণ করে নিজেদের শাসনব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে বিজেপি।” তিনি দাবি করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা থেকে জনদৃষ্টি সরাতে বিজেপি বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করছে।

চৌধুরী বলেন, “গত সাত বছরে রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি, অথচ পাঁচবার বিদ্যুৎ ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্যাসের দামের অজুহাতে জনগণের উপর বোঝা চাপানো হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারা যুবসমাজকে উস্কে দিয়ে বিরোধী কর্মসূচিতে হামলা চালাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

🧭 বিরোধী নেতার অভিযোগের মূল দিক

অভিযোগের ধরনবিবরণবিরোধী দলের দাবি
গণতান্ত্রিক অধিকার হরণবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা, সাংবাদিকদের হুমকিমতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা
প্রশাসনিক ব্যর্থতাবিদ্যুৎ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল পরিষেবাস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
যুবসমাজকে উস্কানিবিরোধী সভায় হামলা, রাজনৈতিক উত্তেজনাশান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা
বিদ্যুৎ ট্যারিফ বৃদ্ধিপাঁচবার বাড়ানো হয়েছেজনগণের উপর অযৌক্তিক চাপ

চৌধুরী বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধিতা করি না, বরং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে চাই।”

🔍 বিদ্যুৎ সংকট ও ট্যারিফ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান

বছরবিদ্যুৎ ট্যারিফ বৃদ্ধি (%)সরকারী ব্যাখ্যাবিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
২০১৯৮%গ্যাসের দাম বৃদ্ধিউৎপাদন বাড়াতে ব্যর্থ
২০২০১০%রক্ষণাবেক্ষণ খরচজনগণের উপর বোঝা
২০২১৭%কেন্দ্রের অনুদান কমপরিকল্পনার অভাব
২০২৩১২%আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতাঅজুহাত মাত্র
২০২৫৯%গ্যাস সরবরাহ সংকটবিকল্প উৎসে বিনিয়োগের দাবি

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যর্থতা জনগণের উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

📉 আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

ঘটনা / অভিযোগসময়কাল / স্থানবিরোধী দলের মন্তব্য
বিরোধী সভায় হামলাআগরতলা, আগস্ট ২০২৫“বিজেপি যুবকদের উস্কে দিচ্ছে”
সাংবাদিকদের হুমকিধলাই, জুলাই ২০২৫“মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে”
বিরোধী নেতার বাড়িতে হামলাউনাকোটি, জুন ২০২৫“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা”
পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তারাজ্যজুড়ে“পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ”

চৌধুরী বলেন, “ত্রিপুরায় আজ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বিরোধী দল হওয়া মানেই হুমকির মুখে থাকা।”

🔥 বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

বিজেপি নেতা / মন্ত্রীমন্তব্যঅবস্থান
কিশোর বর্মন (মন্ত্রী)“বিরোধীরা জনবিচ্ছিন্ন, তাই অভিযোগ করছে”কংগ্রেস-সিপিআইএম জোটকে দুর্বল বলছেন
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা(কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই)নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
বিজেপি মুখপাত্র“সরকার উন্নয়নে ব্যস্ত, বিরোধীরা বিভ্রান্ত করছে”অভিযোগ অস্বীকার

বিজেপি নেতারা বিরোধী দলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন, যদিও মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।

🧠 বিশ্লেষক মতামত ও জনমত

বিশ্লেষক নামভূমিকামন্তব্য
মীরা আইয়াররাজনৈতিক বিশ্লেষক“বিরোধী দলের অভিযোগ গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”
রাজীব বংশলসমাজবিজ্ঞানী“রাজনৈতিক উত্তেজনা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
ড. রাকেশ সিনহাপ্রশাসনিক গবেষক“পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা রক্ষা জরুরি।”

জনমতের একটি অংশ মনে করছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিরোধী কণ্ঠস্বর রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।

📌 উপসংহার

ত্রিপুরা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার অভিযোগ শুধু বিরোধী দলের বক্তব্য নয়, এটি রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই রাজ্যের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক বিবৃতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এবং কোনো রাজনৈতিক, আইনগত বা প্রশাসনিক পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *