ত্রিপুরা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে ফের বড় সাফল্য পেল। ২৮ জুলাই পূর্ব আগরতলা থানার একটি বিশেষ অভিযানে দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের কাছ থেকে ৯৭.৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের কালোবাজার মূল্য প্রায় ₹১০ লক্ষ বলে জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার।
🕵️♀️ কীভাবে ধরা পড়ল পাচারচক্র?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বঙ্কুমারী বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পূর্ব আগরতলা থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত দেবনাথ। অভিযুক্ত দুই মহিলা—রোজনা বেগম (৩৫) এবং কলসোম বেগম (২৪)—ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার বাসিন্দা। তাঁরা সম্প্রতি সিলচর, আসাম থেকে আগরতলায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
| অভিযুক্তের নাম | বয়স | ঠিকানা | আগমনস্থল | গ্রেপ্তারের স্থান |
|---|---|---|---|---|
| রোজনা বেগম | ৩৫ | বিশালগড়, সিপাহিজলা | সিলচর | বঙ্কুমারী বাজার, আগরতলা |
| কলসোম বেগম | ২৪ | মধুপুর, সিপাহিজলা | সিলচর | বঙ্কুমারী বাজার, আগরতলা |
📦 উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ ও মূল্য
| তারিখ | উদ্ধার স্থান | হেরোইনের পরিমাণ | প্যাকেট সংখ্যা | কালোবাজার মূল্য | গ্রেপ্তার |
|---|---|---|---|---|---|
| ২৮ জুলাই | বঙ্কুমারী, আগরতলা | ৯৭.৫ গ্রাম | ৯টি | ₹১০ লক্ষ | ২ জন |
পুলিশ জানিয়েছে, হেরোইনটি সাবানের প্যাকেটে করে বহন করা হচ্ছিল এবং সঙ্গে ছিল দুইটি মোবাইল ফোন, যা পাচারের যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
⚖️ আইনি পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনার পর NDPS Act-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ রিমান্ড চাওয়া হয়েছে যাতে সরবরাহ চক্র ও সহযোগীদের খোঁজ পাওয়া যায়।
পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই মাদক সিলচর থেকে ত্রিপুরায় আনা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি, এর পেছনে বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য চক্র রয়েছে কিনা।”
📉 ত্রিপুরায় মাদকবিরোধী অভিযানের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
| তারিখ | জেলা/স্থান | ধৃত ব্যক্তি | উদ্ধারকৃত মাদক | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ জুলাই | আগরতলা, পশ্চিম ত্রিপুরা | ২ মহিলা | ৯৭.৫ গ্রাম হেরোইন | ₹১০ লক্ষ |
| ২২ জুলাই | নোনেই, NH-৩৭ | ২ জন | ~৩২,০০০ ক্যান IMFL | ₹১ কোটি |
| ১৯ জুন | জিরিবাম সীমান্ত | ১ জন | ২৫০+ বোতল IMFL | অজানা |
ত্রিপুরা পুলিশ সম্প্রতি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে, যার লক্ষ্য রাজ্যে মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা।
🗣️ প্রশাসনের বার্তা: কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস
ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, “ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ যে ভূমিকা নিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। এই ধরনের অভিযান সমাজে সচেতনতা বাড়াবে এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দেবে।”
📌 উপসংহার
ত্রিপুরায় ₹১০ লক্ষ টাকার হেরোইনসহ দুই মহিলার গ্রেপ্তার শুধুমাত্র একটি আইন প্রয়োগের ঘটনা নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তা। যেখানে যুবসমাজ মাদকের কবলে পড়ছে, সেখানে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সচেতনতা ও প্রতিরোধের পথ দেখায়। পুলিশের সক্রিয়তা এবং জনগণের সহযোগিতায় ত্রিপুরা ধীরে ধীরে মাদকমুক্ত রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।
