ত্রিপুরার অন্যতম শ্রদ্ধেয় সংগীতশিল্পী সদাগর দেববর্মা সম্প্রতি তাঁর নয় দশকের সংগীতজীবন নিয়ে কথা বলেছেন। ৯০ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী তাঁর অনন্য সংগীতশৈলী ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে ত্রিপুরার লোকসংগীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
সদাগর দেববর্মা তাঁর সংগীতজীবনের শুরু থেকেই লোকসংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তাঁর প্রধান বাদ্যযন্ত্র চংপ্রেং, যা তিনি নিজেই তৈরি ও উন্নত করেছেন। তাঁর সংগীতশৈলীতে রয়েছে বাউল সংগীতের প্রভাব, তবে তিনি নিজস্ব ধাঁচে সংগীত রচনা করেছেন, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার সংগীত জীবনের মূল অনুপ্রেরণা এসেছে সাহুর ও ভৈরাগীদের কাছ থেকে। তাঁদের সংগীতশৈলী আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা আমার সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছে”।
সদাগর দেববর্মার সংগীতশিল্পের স্বীকৃতি এতটাই বিস্তৃত যে তাঁর নামে একটি গ্রাম সদাগর পাড়া নামে পরিচিত হয়েছে। তাঁর সুর ও সংগীত আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করছে, এবং তাঁর রচিত গান বলিউডের প্লেব্যাক শিল্পীদের দ্বারাও পরিবেশিত হয়েছে।
সম্প্রতি, তিনি জিরো ফেস্টিভ্যাল-এ অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি তাঁর সংগীতজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন এবং লোকসংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন।
সদাগর দেববর্মার এই দীর্ঘ সংগীতযাত্রা শুধু ত্রিপুরার নয়, সমগ্র ভারতের লোকসংগীতের জন্য এক মূল্যবান সম্পদ। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও সংগীতপ্রেম আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
