ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের বিধায়ক সুবল ভৌমিক অভিযোগ করেছেন যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় BEUP (ব্লক এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) এর অধীনে চলা উন্নয়নমূলক কাজগুলি বিজেপি সমর্থিত গোষ্ঠী ও স্থানীয় নেতারা পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দিচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থমকে গেছে।
সুবল ভৌমিক দাবি করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে BEUP প্রকল্পের আওতায় স্কুল ঘর সংস্কার, রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং পানীয় জলের লাইন সম্প্রসারণের মতো কাজ চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাধিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করছে ঠিকাদারদের। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “মানুষের স্বার্থে এই কাজগুলো হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করার মানে মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা। রাজ্য সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা। প্রকল্পগুলিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া খুবই দুঃখজনক।”
প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাধার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
| প্রকল্প | ব্লক | অনুমোদিত অর্থ (₹ কোটি) | কাজের অগ্রগতি (%) | প্রধান বাধা |
|---|---|---|---|---|
| স্কুল ঘর সংস্কার | খোয়াই | 2.4 | 60 | রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ |
| ড্রেনেজ উন্নয়ন | ধর্মনগর | 3.1 | 40 | স্থানীয় বিরোধিতা |
| পানীয় জল লাইন সম্প্রসারণ | বিলোনিয়া | 1.8 | 55 | অর্থ ছাড়ে বিলম্ব |
| গ্রামীণ রাস্তা | আমবাসা | 2.0 | 70 | ঠিকাদারদের নিরাপত্তা শঙ্কা |
কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেছেন, এইভাবে কাজ আটকে রাখার মাধ্যমে শাসক দল ভোটের সময় মানুষকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করছে। তিনি আরও বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজগুলো জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে হচ্ছে। তাই জনগণের সুবিধার কথা ভেবে সকল দলকে সমানভাবে চলতে হবে। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই কাজ বন্ধ করছে।”
বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক স্থানীয় বিজেপি নেতা বলেন, “কংগ্রেসের কোনো ভিত্তি নেই। প্রকল্পগুলির টেন্ডার, অনুমোদন, কার্যকরকরণ সমস্তই প্রশাসনিক স্তরে হয়। আমাদের দলের কর্মীরা কোনো কাজ বন্ধ করেনি। বরং, কংগ্রেসেরই একাংশ ঠিকাদার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করছে, তাই মানুষের অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।”
রাজ্যের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত এবং আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে BEUP-এর মতো প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শাসক দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে এই ধরনের দোষারোপের রাজনীতি একদিকে প্রশাসনিক কাজের গতিকে প্রভাবিত করছে, অন্যদিকে মানুষের আস্থাও নষ্ট করছে।
বিইউপি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলিতে দ্রুত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তা, পানীয় জল ও স্যানিটেশন খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে প্রকল্পগুলির পূর্ণ সুফল জনগণ পাচ্ছে না।
সামনের পথ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে সমস্ত পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডেকে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করা। একদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব এই কাজগুলিতে সহযোগিতা করা।
ত্রিপুরা কংগ্রেস বিধায়কের এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা রাজ্যের উন্নয়ন ব্যবস্থাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে মানুষের আস্থা হারানোর ঝুঁকি থাকবে বিরোধী দলের উপরেই।
উপসংহার
রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে BEUP-এর মতো প্রকল্পগুলিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। মানুষের প্রয়োজন, স্বপ্ন ও অধিকারকে রাজনৈতিক কৌশলের হাতিয়ার না বানিয়ে, রাজ্য সরকার এবং সমস্ত দলের উচিত সমন্বিতভাবে কাজ করা। তবেই ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য সংবাদ পরিবেশন মাত্র। এখানে প্রকাশিত তথ্য সরকারি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। কোনও ধরনের বিনিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অথবা রাজনৈতিক মতামত গ্রহণের পূর্বে স্বতন্ত্র যাচাই ও পরামর্শ গ্রহণ করুন।
