ত্রিপুরা: রাজ্য সভাপতি নির্বাচনে স্থবিরতা, দিল্লিতে বিজেপির আদিবাসী নেতাদের তৎপরতা

ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির আদিবাসী নেতাদের একটি ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের স্থবিরতা এবং আদিবাসী উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জনজাতি মোর্চার সভাপতি পরিমল দেববর্মা, রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা এবং প্রাক্তন সাংসদ রেবতি ত্রিপুরা।

🗳️ রাজ্য সভাপতি নির্বাচন: স্থবিরতা ও উদ্বেগ

  • ত্রিপুরা বিজেপি ইতিমধ্যে বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক নির্বাচন সম্পন্ন করেছে।
  • তবে রাজ্য সভাপতি পদে নির্বাচন এখনও সম্পন্ন হয়নি, যা সংগঠনের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
  • জনজাতি মোর্চার ৯ আগস্টের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে পরিকল্পিত কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে।

🧭 দিল্লি সফরের উদ্দেশ্য ও আলোচনার বিষয়

  • প্রতিনিধি দল BL সন্তোষ, JP নাড্ডা এবং অমিত শাহ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
  • আলোচনার মূল বিষয়:
    • রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের স্থবিরতা নিরসন
    • আদিবাসী উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি
    • জনজাতি মোর্চার সাংগঠনিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন

📊 সাংগঠনিক স্তরে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ

স্তরনির্বাচন সম্পন্ননেতৃত্ব স্থিরমন্তব্য
বুথসক্রিয় কর্মী নিয়োগ
মণ্ডলসাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী
জেলানেতৃত্বে স্থিতিশীলতা
রাজ্যসভাপতি নির্বাচন স্থবির

🗣️ নেতাদের বক্তব্য

  • রেবতি ত্রিপুরা: “আমরা দিল্লিতে এসেছি সংগঠনের ভবিষ্যৎ ও আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে।”
  • পরিমল দেববর্মা: “জনজাতি মোর্চার কর্মসূচি বাতিলের কারণ নিয়ে আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে পর্যালোচনা করব।”
  • বিকাশ দেববর্মা: “ত্রিপুরার আদিবাসীদের জন্য আরও সুফল নিশ্চিত করতে আমরা কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।”

🧮 আদিবাসী জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক প্রভাব

জেলাআদিবাসী জনসংখ্যা (%)রাজনৈতিক গুরুত্বমন্তব্য
পশ্চিম ত্রিপুরা32%উচ্চTMP ও BJP সংঘর্ষের কেন্দ্র
খোয়াই45%উচ্চTMP কর্মীদের হামলার অভিযোগ
ধলাই40%মাঝারিBJP সংগঠনের পুনর্গঠন চলছে
গোমতী38%মাঝারিজনজাতি মোর্চার প্রভাব

🏛️ TMP ও BJP: আদিবাসী রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব

  • TMP (Tipra Motha Party) ৯ আগস্ট খুমলুং-এ আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বিশাল র‍্যালি করে, যেখানে BJP কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
  • BJP-এর আদিবাসী কর্মসূচি বাতিল হওয়ার পেছনে TMP-এর প্রভাব ও সংঘর্ষের আশঙ্কা অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
  • TMP-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব BJP-এর আদিবাসী ভোটব্যাংকে চাপ সৃষ্টি করছে।

📋 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি

  • রাজ্য সভাপতি নির্বাচন: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সম্ভাবনা।
  • জনজাতি মোর্চার পুনর্গঠন: সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে নতুন নেতৃত্ব ও কর্মসূচি।
  • আদিবাসী উন্নয়ন প্রকল্প: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

🛡️ বিজেপির বার্তা

  • “ত্রিপুরার আদিবাসী জনগোষ্ঠী আমাদের অগ্রাধিকার। তাঁদের উন্নয়ন ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
  • “সংগঠনের স্থবিরতা দ্রুত নিরসন করে আমরা ২০২৬ সালের TTAADC নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করব।”

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণ শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *