ত্রিপুরা সরকার চালু করলো বিদ্যালয় রেটিং কাঠামো, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বললেন ‘এটি শিক্ষাক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে’

ত্রিপুরা সরকারের শিক্ষা বিভাগ রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বিদ্যালয় রেটিং কাঠামো চালু করলো। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় এই নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং বিদ্যালয়গুলিকে শিক্ষাদানের মানোন্নয়নে প্রেরণা জোগাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা অনুষ্ঠানে বলেন,

“বিদ্যালয় রেটিং কাঠামো আমাদের সরকার পরিচালিত শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনবে। এটি বিদ্যালয়গুলির মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং প্রত্যেক শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীকে তাদের পারফরম্যান্স উন্নত করতে উৎসাহিত করবে।”

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার মান, শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসহ একাধিক বিষয়ে ভিত্তি করে এই রেটিং দেওয়া হবে।

বিদ্যালয় রেটিং কাঠামোর মূল দিকনির্দেশনা

মূল্যায়নের ক্ষেত্রমূল্যায়ন পদ্ধতি
অবকাঠামোশ্রেণিকক্ষ, শৌচাগার, পানীয়জল, খেলার মাঠ
শিক্ষাদানের মানপাঠদান পদ্ধতি, ইনোভেটিভ টিচিং টুলস ব্যবহার
পরীক্ষার ফলাফলপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ফলাফল
শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিতিগড় উপস্থিতির হার ও নিয়মিততা
ছাত্রছাত্রী উপস্থিতিবছরে উপস্থিতির গড় হার
সহপাঠ্যক্রম কার্যক্রমক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান মেলা, পরিবেশ শিক্ষা

রাজ্য শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এই রেটিং প্রতি বছর প্রকাশ করা হবে এবং যেসব বিদ্যালয় সর্বোচ্চ রেটিং পাবে, তাদের বিশেষ পুরস্কার ও অনুদান দেওয়া হবে।

শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

ত্রিপুরা শিক্ষা দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন,

“আমাদের লক্ষ্য বিদ্যালয়গুলির মধ্যে গুণগত মানোন্নয়নের জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং তাদেরও রেটিং উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে।”

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

রাজ্যের শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট সময়োপযোগী। আগরতলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ অনিরুদ্ধ দেববর্মা বলেন,

“একটি বিদ্যালয় কেমন শিক্ষা দিচ্ছে তা বোঝার জন্য রেটিং পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রেটিং যেন শুধু কাগজে-কলমে না থাকে, বাস্তবে তার প্রভাব পড়ে, সেটাই দেখার বিষয়।”

ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

নতুন রেটিং কাঠামো নিয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। পশ্চিম ত্রিপুরার এক অভিভাবক জানান,

“যদি সরকার সত্যিই এই রেটিং পদ্ধতিকে সঠিকভাবে কার্যকর করে, তবে বিদ্যালয়গুলির পড়াশোনার মান অনেকটাই ভালো হবে।”

ছাত্রছাত্রীদের একাংশ জানিয়েছে, রেটিংয়ের ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলিতে নতুন সুবিধা এলে তাদের পড়াশোনা ও অন্যান্য কার্যক্রমে আগ্রহ বাড়বে।

ত্রিপুরা সরকারের সাম্প্রতিক শিক্ষামূলক পদক্ষেপসমূহ

বছরউদ্যোগলক্ষ্য
2022বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম500 বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষা
2023শিক্ষক প্রশিক্ষণ মডিউল20,000 শিক্ষককে নতুন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ
2024স্কুল কম্পাউন্ড উন্নয়ন1200 বিদ্যালয়ে নতুন বাউন্ডারি ও শৌচাগার নির্মাণ
2025বিদ্যালয় রেটিং কাঠামোবিদ্যালয়গুলির মানোন্নয়ন ও পারফরম্যান্স ভিত্তিক পুরস্কার

বিদ্যালয়গুলির সম্ভাব্য লাভ

  • অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ
  • শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ
  • ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অনুদান বৃদ্ধি
  • ভালো রেটিং প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের জন্য সেরা বিদ্যালয় সম্মাননা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এই রেটিং কাঠামো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতেও কার্যকর করা হবে এবং কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রকের পারফরম্যান্স গ্রান্টের সাথে সংযুক্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষা মিশন

মানিক সাহা আরও বলেন,

“ত্রিপুরা সরকার NEP 2020 বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি বিদ্যালয়কে মডেল স্কুলে পরিণত করা এবং শিক্ষার্থীদের সেরা সুযোগ প্রদান করা।”

তিনি জানান, বিদ্যালয় রেটিং কাঠামো সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

উপসংহার

ত্রিপুরা সরকারের এই বিদ্যালয় রেটিং কাঠামো রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকরতা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থার উপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যালয়গুলির রেটিং প্রকাশের সাথে সাথে তার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারলে ত্রিপুরার শিক্ষা মান দ্রুত উন্নত হবে।


Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য ও সংবাদ পরিবেশনের উদ্দেশ্যে লেখা। এটি কোনো শিক্ষাগত, প্রশাসনিক বা নীতিগত পরামর্শ নয়। বিদ্যালয় নীতি, রেটিং ও শিক্ষামূলক সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন দেখার অনুরোধ রইল। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *