ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ জেলার সাবরুমের সাচান্দ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী প্রধান শিক্ষক জনতাপতি ত্রিপুরা এবং আরও আটজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে জেলা শিক্ষা দপ্তর। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট দুপুর ১:৩৫ মিনিটে জেলা শিক্ষা আধিকারিক (DEO) কর্তৃক পরিচালিত আকস্মিক পরিদর্শনে এই অনিয়ম ধরা পড়ে।
🏫 পরিদর্শনের সময় ধরা পড়া অনিয়ম
- জনতাপতি ত্রিপুরা: কোনো পূর্ব অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন এবং কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন না।
- অন্য ৮ জন শিক্ষক: একই দিনে কোনো বৈধ ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই স্কুলে অনুপস্থিত ছিলেন।
- ক্লাস চলাকালীন অবহেলা: উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষককে স্টাফ রুম ও ICT রুমে অলসভাবে বসে থাকতে দেখা যায়, ফলে ছাত্রছাত্রীরা নির্ধারিত পাঠ থেকে বঞ্চিত হয়।
- পরিবেশের অবনতি: শ্রেণিকক্ষ ও স্কুল চত্বর অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়।
📋 প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও নির্দেশনা
- অভিযুক্তদের দুই কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
- ব্যাখ্যা না দিলে ‘dies-non’ (কাজ না করলে বেতন নয়) হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- DEO D.K. Debbarma বলেন, “শিক্ষকরা যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন, তা শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
📊 শিক্ষক অনুপস্থিতির বিশ্লেষণ
| শিক্ষক পদ | অনুপস্থিতির ধরন | পূর্ব ইতিহাস | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সহকারী প্রধান শিক্ষক | অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত | পুনরাবৃত্ত | নেতৃত্বের দৃষ্টান্তহীনতা |
| ৮ জন শিক্ষক | ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত | অজানা | প্রশাসনিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন |
| উপস্থিত শিক্ষক | ক্লাসে অংশগ্রহণহীন | পরিদর্শনে ধরা | শিক্ষার্থীদের পাঠ বঞ্চনা |
🧮 বিদ্যালয় পরিবেশ ও শিক্ষার মান
| পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র | অবস্থা | প্রভাব |
|---|---|---|
| শ্রেণিকক্ষ | অপরিচ্ছন্ন | ছাত্রদের মনোযোগে বিঘ্ন |
| ICT রুম | অলস অবস্থায় শিক্ষক | প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যাঘাত |
| স্টাফ রুম | অলসতা | কর্মসংস্কৃতির অবনতি |
| পাঠদান কার্যক্রম | বিঘ্নিত | শিক্ষার মান হ্রাস |
🗣️ অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
- অভিভাবকরা: “আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিক্ষকরা যদি দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে বিদ্যালয় কীভাবে চলবে?”
- ছাত্রছাত্রীরা: “আমরা প্রতিদিন স্কুলে আসি, কিন্তু অনেক সময় ক্লাস হয় না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।”
🧭 শিক্ষা দপ্তরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
- শৃঙ্খলা জোরদার: বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন চালু থাকবে।
- শিক্ষক মূল্যায়ন: শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে।
- ছাত্র কল্যাণ: শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
🛡️ প্রশাসনের বার্তা
- “শিক্ষকরা শুধু পাঠদানকারী নন, তাঁরা সমাজের পথপ্রদর্শক। তাঁদের দায়িত্বে অবহেলা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচার।”
- “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণ শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।
