দলীয় সীমা ভেঙে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে ভিক্ষার সঙ্গে তুলনা করলেন মিঠুন; তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা। বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী সম্প্রতি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে “ভিক্ষা” বলে অভিহিত করে দলীয় সীমা ভেঙে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা—এই মন্তব্য কি বিজেপির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত?

🎤 মিঠুনের মন্তব্য: বিতর্কের সূচনা

এক জনসভায় মিঠুন বলেন, “সরকার যদি প্রতিদিন টাকা দেয়, সেটা ভিক্ষা হয়ে যায়। মানুষকে কাজ দিতে হবে, সম্মান দিতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে সরাসরি ভিক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই মন্তব্যের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা একে “নারী-অপমান” এবং “জনবিরোধী মানসিকতা” বলে অভিহিত করেছেন।

🔥 তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ

  • কুণাল ঘোষ: “মিঠুন চক্রবর্তী নারীদের সম্মান বোঝেন না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা দেয়।”
  • সাকেত ঘোষ: “বিজেপি নেতারা বাংলার নারীদের অপমান করছেন। এটা বাংলার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।”
  • শশী পাঁজা: “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ নারী উপকৃত। এটা ভিক্ষা নয়, সম্মানের অধিকার।”

📊 লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপকারভোগী পরিসংখ্যান

জেলাউপকারভোগী নারীর সংখ্যা
কলকাতা১,২০,০০০
উত্তর ২৪ পরগনা২,৫০,০০০
দক্ষিণ ২৪ পরগনা২,১০,০০০
হাওড়া১,৪০,০০০
হুগলি১,৩০,০০০
মালদা৯০,০০০
মুর্শিদাবাদ১,১০,০০০

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিমাসে ₹৫০০ থেকে ₹১,০০০ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী, ১.৮ কোটি নারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

🧭 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বিজেপির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ?

মিঠুন চক্রবর্তীর মন্তব্যকে অনেকেই বিজেপির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন। কারণ, বিজেপির অন্যান্য নেতারা এই প্রকল্প নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করেননি। বরং নির্বাচনী প্রচারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর জনপ্রিয়তা নিয়ে সতর্ক ছিলেন।

বিজেপি নেতালক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে অবস্থান
শুভেন্দু অধিকারীসরাসরি সমালোচনা করেননি
দিলীপ ঘোষ“জনগণের টাকা অপচয়” বলেছিলেন
মিঠুন চক্রবর্তী“ভিক্ষা” বলে অভিহিত করেছেন

🎬 মিঠুনের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব

মিঠুন চক্রবর্তী ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি বিজেপির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

এই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত, না কি বিজেপির নতুন কৌশল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

🗣️ জনমত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

  • সামাজিক মাধ্যম: #লক্ষ্মীরভাণ্ডার, #মিঠুনবিরোধী ট্রেন্ড করছে
  • নারী সংগঠন: মিঠুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে
  • সাধারণ মানুষ: “ভিক্ষা নয়, এটি আমাদের অধিকার”—এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছে

📌 ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

  • বিজেপির নারী ভোট: এই মন্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • তৃণমূলের প্রচার কৌশল: ‘নারী-অপমান’ ইস্যুতে জোর দিতে পারে
  • মিঠুনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: দলীয় অবস্থান স্পষ্ট না হলে তাঁর প্রভাব কমতে পারে

🧾 প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
প্রকল্পের নামলক্ষ্মীর ভাণ্ডার
চালু হয়েছে২০২১
উপকারভোগী১.৮ কোটি নারী
মাসিক সহায়তা₹৫০০ (সাধারণ), ₹১,০০০ (SC/ST)
উদ্দেশ্যনারীদের আর্থিক স্বাধীনতা

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসভা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক। এতে উল্লিখিত মতামত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচার বা আইনগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *