পিডিএস ডিজিটালাইজেশনে পূর্বোত্তরে শীর্ষে ত্রিপুরা: ৮১% e-KYC সফলতা রাজ্যকে এগিয়ে রাখছে

ত্রিপুরা রাজ্য আবারও প্রমাণ করল যে প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কারে তারা পূর্বোত্তর ভারতের অগ্রগামী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৮১% ই-কেয়েসি (e-KYC) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) ডিজিটালাইজেশনে ত্রিপুরাকে পূর্বোত্তর ভারতের শীর্ষে স্থান দিয়েছে। এই সাফল্য রাজ্যের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দপ্তরের নিরলস প্রচেষ্টার ফল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন কার্ড’ (ONORC) প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ত্রিপুরা সরকারের মুখ্য সচিব (খাদ্য) ড. শৈলেশ কুমার যাদব জানান, “ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ৮১% e-KYC সম্পন্ন করেছে, যা পূর্বোত্তর ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা আগামী মাসে ৯০% অতিক্রম করার লক্ষ্যে কাজ করছি।”

🧭 ই-কেয়েসি ও পিডিএস ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতি

রাজ্যe-KYC সফলতা (%)ডিজিটাল রেশন কার্ড রূপান্তরONORC বাস্তবায়ন অগ্রগতি
ত্রিপুরা৮১%৯৮%সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত
অসম৭৩%৮৯%আংশিক বাস্তবায়িত
মিজোরাম৬৫%৮১%প্রাথমিক পর্যায়ে
মণিপুর৫৯%৭৫%সীমিত বাস্তবায়ন
নাগাল্যান্ড৪৮%৬৯%পরিকল্পনা পর্যায়ে

ত্রিপুরার এই অগ্রগতি শুধু পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়, এটি নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

🔍 কীভাবে e-KYC বদলে দিচ্ছে রেশন ব্যবস্থাকে

e-KYC বা ইলেকট্রনিক KYC হলো আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া, যা রেশন কার্ডধারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ভুয়া বা ডুপ্লিকেট কার্ড বাতিল করতে সাহায্য করে।

সুবিধাপ্রভাব
আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণভুয়া রেশন কার্ড বাতিল, প্রকৃত উপভোক্তা নিশ্চিত
ডিজিটাল রেশন কার্ডমোবাইল ও OTP-ভিত্তিক রেশন গ্রহণ
ONORC বাস্তবায়নঅন্য রাজ্য থেকেও রেশন গ্রহণের সুবিধা
POS মেশিন ব্যবহারস্বচ্ছতা ও রিয়েল-টাইম ট্রান্সাকশন

ত্রিপুরার প্রতিটি রেশন দোকানে POS (Point of Sale) মেশিন স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে উপভোক্তারা আধার যাচাই করে রেশন গ্রহণ করতে পারেন।

📉 চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

ত্রিপুরার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যে ডিজিটালাইজেশন সহজ নয়। পাহাড়ি অঞ্চল, নেটওয়ার্ক সমস্যার পাশাপাশি নাগরিকদের ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জসমাধান
নেটওয়ার্ক সমস্যাঅফলাইন মোডে POS কার্যক্রম চালু
ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবরেশন ডিলারদের মাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি
আধার লিঙ্কিং জটিলতাক্যাম্প ভিত্তিক আধার আপডেট সহায়তা
ভাষাগত সমস্যাবাংলা ও ককবরক ভাষায় POS ইন্টারফেস

ত্রিপুরা সরকার জেলা ও ব্লক স্তরে বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে আধার লিঙ্কিং ও ই-কেয়েসি সম্পন্ন করছে।

🧠 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য

ত্রিপুরা সরকারের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০% ই-কেয়েসি সম্পন্ন করা। এছাড়া, রেশন ডেলিভারি ব্যবস্থায় ড্রোন প্রযুক্তি ও মোবাইল রেশন ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিকল্পনাসম্ভাব্য ফলাফল
১০০% e-KYCসর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ভুয়া কার্ড নির্মূল
মোবাইল রেশন ইউনিটদুর্গম এলাকায় রেশন পৌঁছানো সহজ হবে
ড্রোন প্রযুক্তিপাহাড়ি অঞ্চলে জরুরি রেশন ডেলিভারি
রেশন অ্যাপ চালুউপভোক্তারা নিজের রেশন হিসাব দেখতে পারবেন

ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ‘রেশন অ্যাট ডোরস্টেপ’ পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যা সফল হলে রাজ্যজুড়ে সম্প্রসারিত হবে।

🔥 নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া ও সচেতনতা

ত্রিপুরার নাগরিকরা এই ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে e-KYC ও POS ব্যবস্থার মাধ্যমে রেশন গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।

এলাকানাগরিক প্রতিক্রিয়াসমস্যা/সুবিধা
আগরতলা শহরPOS ব্যবস্থায় সন্তুষ্টদ্রুত রেশন গ্রহণ, OTP সমস্যা মাঝে মাঝে
ধলাই জেলাক্যাম্পের মাধ্যমে ই-কেয়েসি সম্পন্ননেটওয়ার্ক সমস্যা, সচেতনতা বাড়ছে
উত্তর ত্রিপুরামোবাইল রেশন ইউনিটের দাবিদুর্গম এলাকায় রেশন পৌঁছানো কঠিন

ত্রিপুরা সরকারের খাদ্য দপ্তর নাগরিকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ও মোবাইল অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা করছে।

📌 উপসংহার

ত্রিপুরা রাজ্য পিডিএস ডিজিটালাইজেশনে পূর্বোত্তর ভারতের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে। ৮১% e-KYC সফলতা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সাফল্য। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ৩০ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত এবং কোনো আইনি, রাজনৈতিক বা প্রযুক্তিগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *