ফের নিয়োগ দুর্নীতি? তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুর সম্পত্তি-সহ কলকাতায় ছয় স্থানে ED হানা

নিয়োগ দুর্নীতি

পশ্চিমবঙ্গে ফের নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা অগ্নি ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী সুজিত বসুর সম্পত্তিতে হানা দিয়েছে। ১০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১১টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর-১-এর একটি বাড়ি, যা সুজিত বসুর ক্যাম্প অফিস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

কী ঘটেছে?

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ১৬টি পৌরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সুজিত বসুর পাশাপাশি ডুমডুম পৌরসভার প্রাক্তন আধিকারিকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। ইডি-র দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতিতে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিক জড়িত থাকতে পারেন।

অভিযানের মূল লক্ষ্য

তল্লাশি স্থানের সংখ্যামূল ব্যক্তিসংশ্লিষ্ট পৌরসভাসম্পত্তির ধরন
১১সুজিত বসুডুমডুম, বিধাননগরক্যাম্প অফিস, বাসভবন
প্রাক্তন পৌর আধিকারিকডুমডুমব্যক্তিগত বাড়ি
ঘনিষ্ঠ সহযোগীকলকাতাবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

নিয়োগ দুর্নীতির প্রেক্ষাপট

রাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভায় কর্মী নিয়োগে স্বজনপোষণ, ঘুষ গ্রহণ এবং নিয়মবহির্ভূত পদ্ধতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। এর আগে শিক্ষা দপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতিতে একাধিক তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এবার পৌরসভা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ইডি।

দুর্নীতির ধরনপ্রভাবিত ক্ষেত্রসম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তি
ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগপৌরসভা কর্মীরাজনৈতিক নেতা, পৌর আধিকারিক
নিয়মবহির্ভূত সুপারিশঅস্থায়ী পদস্থানীয় নেতারা
নথি জালিয়াতিশিক্ষাগত যোগ্যতাপ্রার্থী ও দালাল চক্র

সুজিত বসুর প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসু এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা আমাকে টার্গেট করছে। আমি নির্দোষ, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করব।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, “ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ—সব জায়গায় তৃণমূলের দুর্নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। ইডি সঠিক পথে তদন্ত করছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তদন্তের অগ্রগতি

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। এগুলির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে নিয়োগ দুর্নীতির মূল চক্রকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার সামগ্রীপরিমাণবিশ্লেষণাধীন
নগদ অর্থ₹৪.৫ লক্ষহ্যাঁ
নথিপত্র৩৫টি ফাইলহ্যাঁ
ডিজিটাল ডিভাইস৭টিহ্যাঁ

নিয়োগ দুর্নীতির সম্ভাব্য প্রভাব

ক্ষেত্রপ্রভাবমন্তব্য
পৌর পরিষেবাকর্মী সংকটনিয়োগ বাতিল হলে পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে
রাজনৈতিক স্থিতিঅস্থিরতাবিরোধী দলগুলি আন্দোলনে নামতে পারে
প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাক্ষতিগ্রস্তজনগণের আস্থা কমতে পারে

অতীতের অনুরূপ ঘটনা

এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সুজিত বসুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এবার অভিযানের পরিমাণ এবং গভীরতা অনেক বেশি, যা ইঙ্গিত দেয় যে তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে চলেছে।

জনমত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি”, আবার কেউ বলছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান।” সোশ্যাল মিডিয়ায় #RecruitmentScam এবং #EDRaid ট্রেন্ড করছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই তদন্তের ভিত্তিতে আগামী দিনে আরও তৃণমূল নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও কয়েকটি পৌরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা

এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে রিপোর্ট করতে হবে।

নাগরিকদের করণীয়

  • সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা দাবি করা
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া
  • তথ্য যাচাই করে মতামত গঠন করা
  • রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গে ফের নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুর সম্পত্তিতে ইডি-র হানা এই তদন্তকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রচিত। এতে উল্লিখিত মতামত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়। পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে তারা নিজস্ব বিবেচনা অনুযায়ী তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *