“বাংলা বলা কি অপরাধ?” রাজস্থানে অভিবাসীদের আটক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজস্থানে প্রায় ৩০০ জন বাংলা ভাষাভাষী অভিবাসী শ্রমিককে “বাংলাদেশি” বলে আটক করার অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা বলা কি অপরাধ?”—এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

রাজস্থানে আটক, পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশি’ তকমা

উত্তর দিনাজপুরের খিসাহার ও আশপাশের গ্রাম থেকে রাজস্থানে কাজ করতে যাওয়া প্রায় ৩০০ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বাংলা বলছেন, তাই তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়েছে। যদিও তাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা বাংলা বলেন, তাঁদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। তাহলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিবেকানন্দ—তাঁরাও কি বাংলাদেশি ছিলেন?” তিনি জানান, রাজস্থানের মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও বিষয়টি জানানো হবে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ভাষা-ভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শুধু রাজস্থান নয়, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রেও বাংলা ভাষাভাষীদের একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলা বললেই কি কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায়? তাহলে তামিল বললে কি শ্রীলঙ্কান, নেপালি বললে কি নেপালি?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র রক্ষার আহ্বান জানান।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিফলন

এই ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছে, “বাংলা ভাষাভাষীদের শুধু ভাষার কারণে হেনস্থা করা হচ্ছে। এটা ভারতের সংবিধান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।” অন্যদিকে, বিজেপি এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন ভাষা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সচেতনতা বাড়াতে এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *