ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি: ‘এনআরসি থেকেও বিপজ্জনক’, বললেন মমতা, বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ

কলকাতা – ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে “এনআরসি থেকেও বিপজ্জনক” বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এটি “পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালুর চেষ্টা”। অন্যদিকে বিজেপি এই মন্তব্যকে “রাজনৈতিক ভেঙে পড়া” বলে কটাক্ষ করেছে।

🗳️ কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

দিঘায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা জানান, তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দুটি দীর্ঘ চিঠি পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বর-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ভোটারদের পিতামাতার জন্ম সনদ জমা দিতে হবে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য।

“এটা একটা ষড়যন্ত্র। এর মাধ্যমে গরিব, গ্রামীণ, অশিক্ষিত ও অভিবাসী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, “এই নির্দেশিকা বিহারের জন্য বলা হলেও আসল লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ। কারণ বিহারে বিজেপি ক্ষমতায়, আর এখানে তারা ভোটারদের নাম কেটে দিতে চায়।”

🧾 বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে হুমকি দিচ্ছেন।”

তিনি দাবি করেন, কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক

⚖️ বিরোধীদের প্রতি আহ্বান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই খেলা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। আমরা প্রথম প্রতিবাদ করছি, কিন্তু অন্য বিরোধী দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।”

📌 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এল, যখন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বিতর্ক ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই সম্পর্কে সকলকে জানাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *