মণিপুরে ₹৫৫ লক্ষ টাকার অবৈধ মদ উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি: নিষিদ্ধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় পদক্ষেপ

মণিপুরে অবৈধ মদ পাচার রুখতে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এবার ধরা পড়ল এক বিশাল পরিমাণ ভারতীয় তৈরি বিদেশি মদ (IMFL)। ইম্ফল পূর্ব জেলার হেইংগাং থানার অন্তর্গত মান্ত্রিপুখরি এলাকায় ২৬ জুলাই অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ১৬,০৭৩ বোতল IMFL, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ₹৫৫ লক্ষ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে দুই ব্যক্তি—থাংজাম আরবিন সিং (২৮) এবং কেইশাম সান্তা মিতেই (৪০)।


🚨 অভিযানের বিবরণ: কীভাবে ধরা পড়ল পাচারচক্র?

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মান্ত্রিপুখরি এলাকায় অভিযান চালায় হেইংগাং থানার পুলিশ। অভিযানে ধরা পড়ে একটি গাড়ি, যার ভিতরে ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল। অভিযুক্তরা কোনো বৈধ অনুমতি বা নথিপত্র ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ মদ পরিবহণ করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই চালান স্থানীয়ভাবে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল অথবা তা অন্য রাজ্যে পাচার করা হতো।

অভিযুক্তের নামবয়সঠিকানাগ্রেপ্তারের স্থান
থাংজাম আরবিন সিং২৮সাগোলব্যান্ড থাংজাম লেইকাই, ইম্ফল পশ্চিমমান্ত্রিপুখরি, ইম্ফল পূর্ব
কেইশাম সান্তা মিতেই৪০কাংসইবি মাপাল, বিষ্ণুপুর জেলামান্ত্রিপুখরি, ইম্ফল পূর্ব

📦 উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ ও মূল্য

তারিখস্থানউদ্ধারকৃত মদ (বোতল)আনুমানিক মূল্যগ্রেপ্তার
২৬ জুলাইমান্ত্রিপুখরি, ইম্ফল পূর্ব১৬,০৭৩₹৫৫ লক্ষ২ জন

এই উদ্ধারকৃত মদ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছিল এবং স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা অত্যন্ত বেশি। পুলিশ জানিয়েছে, এই পরিমাণ মদ স্থানীয়ভাবে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, অথবা তা অন্য রাজ্যে পাচার করা হতো।


🛑 মণিপুরে মদ নিষিদ্ধ: আইন ও বাস্তবতা

মণিপুরে ১৯৯১ সাল থেকে Liquor Prohibition Act কার্যকর রয়েছে। যদিও ২০২২ সালে কিছু অংশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবুও অধিকাংশ এলাকায় মদের বিক্রি ও পরিবহণ নিষিদ্ধ। এই আইনের আওতায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দেশি মদ প্রস্তুত করতে পারেন।

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মদের চাহিদা ও উচ্চমূল্যের কারণে কালোবাজারে মদের বাণিজ্য রমরমিয়ে চলছে। সীমান্তবর্তী জেলা যেমন জিরিবাম, নোনেই, এবং ইম্ফল পূর্বে বারবার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে।


🔍 চলমান তদন্ত ও সম্ভাব্য চক্র

পুলিশ জানিয়েছে, এই পাচারচক্রের সঙ্গে বৃহত্তর অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই মদ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল। এছাড়াও, পাচারকারীদের সঙ্গে অস্ত্র ও মাদক চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


📉 এক মাসে উদ্ধার হওয়া মদের পরিসংখ্যান

তারিখজেলা/স্থানউদ্ধারকৃত পরিমাণআনুমানিক মূল্যগ্রেপ্তার
২৬ জুলাইমান্ত্রিপুখরি, ইম্ফল পূর্ব১৬,০৭৩ বোতল₹৫৫ লক্ষ২ জন
২২ জুলাইNH-৩৭, নোনেই~৩২,০০০ বোতল/ক্যান₹১ কোটি২ জন
২০ জুলাইমান্ত্রিপুখরি বাজার১৬ বোতল (প্রিমিয়াম)অজানাকেউ নয়
১৯ জুনজিরিবাম সীমান্ত২৫০+ বোতলঅজানা১ জন

মোট উদ্ধার: ৪৮,০০০+ বোতল/ক্যান অবৈধ মদ (জুন ২৮ – জুলাই ২৮, ২০২৫)


🗣️ প্রশাসনের বার্তা: কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস

মণিপুর পুলিশ ও আবগারি দপ্তর জানিয়েছে, তারা অবৈধ মদ পাচার রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমস্ত উদ্ধারকৃত মদ আবগারি দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে যাতে পুরো চক্রের উৎস ও গন্তব্য চিহ্নিত করা যায়।


📌 উপসংহার

মণিপুরে অবৈধ মদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান শুধুমাত্র একটি আইন প্রয়োগ নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তা। যেখানে মদ নিষিদ্ধ, সেখানে কালোবাজারে এর বিস্তার সমাজের জন্য বিপজ্জনক। প্রশাসনের উচিত, এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই ধরনের অভিযান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Dsiclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *