মমতা ১৬ জুলাই কলকাতায় নেতৃত্ব দেবেন বাঙালিদের উপর বহির্রাজ্যে ‘হয়রানি’র প্রতিবাদে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ১৬ জুলাই কলকাতায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হবে। এই মিছিলের মূল উদ্দেশ্য হবে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর ‘হয়রানি, বৈষম্য ও অপমানের’ বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি হরিয়ানা, আসাম, দিল্লি, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত এবং অধ্যয়নরত বাঙালিরা স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “আমরা কোনও রাজ্যের মানুষের সঙ্গে শত্রুতা চাই না। কিন্তু বাঙালিদের উপর বারবার অন্যায় করা হচ্ছে। আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব আমার। এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হবে, কিন্তু আমাদের কণ্ঠস্বর দেশজুড়ে পৌঁছাতে হবে।”

বাঙালিদের উপর বহির্রাজ্যের হয়রানির সাম্প্রতিক উদাহরণ

রাজ্যপ্রধান অভিযোগসম্ভাব্য পদক্ষেপ
হরিয়ানাকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ভাষাগত বৈষম্যশ্রম মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ
দিল্লিছাত্রাবাসে বাঙালি ছাত্রদের অবহেলামানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ চাওয়া
আসামস্থানীয় প্রশাসনের দ্বারা হুমকিঅসম সরকারের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি বৈঠক
মহারাষ্ট্রবাঙালি ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধে বাধ্য করাস্থানীয় প্রশাসন ও বণিক সমিতির মাধ্যমে সমাধান

তৃণমূলের অবস্থান

তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের মতে, এই প্রতিবাদ মিছিল থেকে কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে, বাঙালিরা কোনওভাবেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয়। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “বাংলার মানুষ যেখানেই থাকুন, তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও কাজের অধিকার রক্ষার জন্য দল ও সরকার একসঙ্গে লড়াই করবে।”

বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র সমিক ভট্টাচার্য এই প্রতিবাদকে রাজনৈতিক স্টান্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বাংলায় গুজরাটি, মারোয়ারি ও বিহারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথা বলেছেন। এখন ভোটের আগে সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এই নাটক করা হচ্ছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচন এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করতে চাইছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে নিয়ে মন্তব্য, চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের টার্গেট করার অভিযোগ উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা

তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে এই হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া আসেনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৬ জুলাইয়ের প্রতিবাদের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাইতে পারেন।

প্রতিবাদ মিছিলের পরিকল্পনা

  • তারিখ: ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • স্থান: কলকাতা রানি রাসমণি রোড থেকে মহাত্মা গান্ধী রোড পর্যন্ত
  • সময়: সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত
  • নেতৃত্ব: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  • অংশগ্রহণকারী সংস্থা: তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, তৃণমূল মহিলা মোর্চা, শ্রমিক ইউনিয়ন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি

বিশেষজ্ঞদের মত

সমাজবিজ্ঞানী শুভ্রাংশু সেনগুপ্ত বলেন, “বাংলা ভাষা ও পরিচয় নিয়ে এই মুহূর্তে একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে। বাঙালিরা চিরকালই বহিরাজ্যে কাজের জন্য গিয়েছেন। কিন্তু যখন তাদের অপমান করা হয়, তখন তা রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আবেগকেই কাজে লাগাচ্ছেন।”

উপসংহার

১৬ জুলাইয়ের এই প্রতিবাদ মিছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে। একদিকে বাঙালির অধিকার ও পরিচয় রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে ভোটের রাজনীতির সমীকরণ – দুইয়ের মেলবন্ধন দেখা যাবে এই আন্দোলনে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশনের উদ্দেশ্যে লেখা। এখানে প্রকাশিত তথ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রের উপর ভিত্তি করে। কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে স্বতন্ত্র যাচাই ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *