পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের একাধিক জেলায় চলমান বন্যার জন্য কেন্দ্র সরকার ও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-কে সরাসরি দায়ী করেছেন। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই বন্যাকে “সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট” বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন, ডিভিসি কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ডিভিসির বিরুদ্ধে জল ছাড়ার অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে ডিভিসি একতরফাভাবে জল ছেড়ে দিচ্ছে, অথচ রাজ্য সরকারকে কোনওরকম তথ্য জানানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, “ডিভিসি যদি নিয়মিত ড্রেজিং করত, তাহলে চার লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখার ক্ষমতা থাকত। এখন মাত্র এক লক্ষ কিউসেক জল ধরে রাখতে পারে, ফলে অতিরিক্ত জল ছেড়ে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে”।
কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কেন্দ্র কোনও সহযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, “ঘাটালের জন্য কেন্দ্র কিছুই করেনি। আমরা নিজেরাই ₹১৫০০ কোটি ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ করব।” একইসঙ্গে তিনি জানান, নদীগুলির ড্রেজিং না হওয়ায় এবং ভুটান থেকে জল ছাড়ার ফলে উত্তরবঙ্গেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পরিস্থিতি
দ্বারকেশ্বর, গন্ধেশ্বরী, শীলাবতী ও কংসাবতী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ঘাটাল ও গড়বেতা অঞ্চলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের দাবি: ডিভিসিতে প্রতিনিধিত্ব চাই
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভুটান-ভারত নদী কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই, যার ফলে রাজ্যের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই কমিটিতে আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত, না হলে বারবার আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।”
🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সর্বশেষ আপডেট পেতে।
