স্কুল লাইব্রেরিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বিজেপির তীব্র সমালোচনা

পশ্চিমবঙ্গের স্কুল লাইব্রেরিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ১৯টি বই অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২,০২৬টি সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে এই বইগুলি সংগ্রহে রাখতে হবে, যা ₹২০.২৬ কোটি টাকার লাইব্রেরি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ।

কী রয়েছে নির্দেশিকায়?

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের পাঠানো তালিকায় প্রায় ৫৬০টি বইয়ের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি মুখ্যমন্ত্রীর লেখা। এই বইগুলির মধ্যে রয়েছে ‘আমার পাহাড়’, ‘আমার জঙ্গল’, ‘নন্দী মা’, ‘পরিবর্তন’, ‘সোজা সাপটা’ প্রভৃতি। প্রতিটি স্কুল ₹১ লক্ষ করে অনুদান পাবে এবং পাঁচটি আঞ্চলিক সেটে বিভক্ত বইয়ের তালিকা অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে।

বিজেপির অভিযোগ: ‘প্রচারমূলক পদক্ষেপ’

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই সিদ্ধান্তকে “টিএমসি-র আরেকটি কেলেঙ্কারি” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারি স্কুলগুলিকে বাধ্য করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বই কিনতে, শুধুমাত্র ₹১ লক্ষ অনুদান পাওয়ার জন্য। এটি করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্বার্থে স্কুল লাইব্রেরিকে ব্যবহার করার চেষ্টা”।

শিক্ষাবিদদের আপত্তি

শিক্ষক সংগঠনগুলিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাঁদের মতে, স্কুলগুলির নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী বই বাছাই করার অধিকার থাকা উচিত। এই নির্দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রচারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

প্রশাসনের ব্যাখ্যা

শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই তালিকা বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদিত এবং মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বইগুলিকে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বইগুলির বিষয়বস্তুতে রয়েছে কোভিড, সংবিধান, দুর্গাপুজো ও সরকারি প্রকল্প নিয়ে লেখা।

🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা নীতিতে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *