বলিউড অভিনেত্রী গওহর খান সম্প্রতি মুখ খুললেন স্বামী জায়েদ দরবারের সঙ্গে তাঁর কথিত ১২ বছরের বয়সের পার্থক্য নিয়ে। দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পডকাস্টে গওহর স্পষ্টভাবে জানালেন, এই সংখ্যা কখনোই তাঁদের সম্পর্কের জন্য বাধা ছিল না। বরং মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার অনুমানভিত্তিক প্রতিবেদনই তাঁদের বিরক্ত করেছে।
🎙️ গওহরের বক্তব্য: অনুমান নয়, সত্য জানুন
গওহর বলেন, “আমরা যখন সম্পর্কের কথা প্রকাশও করিনি, তখনই মিডিয়া হেডলাইন করল—‘১২ বছরের ছোট ছেলেকে বিয়ে করলেন গওহর’। ১২ বছর? কোথা থেকে এল এই সংখ্যা? আগে একবার আমাদের জিজ্ঞেস তো করো!”
তিনি আরও যোগ করেন, “সংখ্যা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক দম্পতির মধ্যেই বয়সের পার্থক্য থাকে। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন অনুমান করে কিছু লেখা হয়। জায়েদ আর আমি যদি এই পার্থক্য নিয়ে চিন্তিত না হই, তাহলে অন্যদের মতামত নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার কী?”
💑 সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা: পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়া
গওহর জানান, তাঁদের পরিবার শুরু থেকেই সম্পর্ককে সমর্থন করেছে। “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বিয়ের দিন জানাবো, আশীর্বাদ চাইবো—কিন্তু কারও মতামত শুনবো না। জায়েদ আমাকে তাঁর পরিবারে পরিচয় করিয়েছিল, আমি তাঁকে আমার পরিবারে। আমরা শুধু বলেছিলাম—এই মানুষটিকে বিয়ে করছি, এই তারিখে। আশীর্বাদ দিতে চাইলে আসুন।”
📊 বলিউডে বয়সের পার্থক্য: নজরকাড়া উদাহরণ
| দম্পতি | বয়সের পার্থক্য | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গওহর খান ও জায়েদ দরবার | ৬–১২ বছর (অনুমান) | গওহর বললেন, “সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়” |
| প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস | ১০ বছর | আন্তর্জাতিক দম্পতি |
| ফারহা খান ও শিরীষ কুন্দর | ৮ বছর | সফল পরিচালক-প্রযোজক দম্পতি |
| সঞ্জয় দত্ত ও মান্যতা | ১৯ বছর | দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক |
গওহর স্পষ্ট করে দেন, “সংখ্যা নিয়ে মিডিয়া যতই হেডলাইন করুক, আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি ভালোবাসা ও সম্মান।”
🤰 মাতৃত্ব ও ব্যক্তিগত জীবন
২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর গওহর ও জায়েদ বিয়ে করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁদের প্রথম সন্তান, ছেলে জেহান জন্মগ্রহণ করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাঁরা দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানান একটি মজার ভিডিওর মাধ্যমে।
গওহর বলেন, “আমরা আমাদের জীবন খুব সাধারণভাবে পরিচালনা করি। মিডিয়া যতই আলোচনা করুক, আমরা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিই।”
🗣️ মিডিয়া ও ট্রোলিং নিয়ে প্রতিক্রিয়া
গওহর জানান, “আমরা কখনোই কোনো বিবৃতি দিইনি। ২ বছর হোক বা ১২, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। মিডিয়া আগে জিজ্ঞেস করুক, তারপর লিখুক। অনুমান করে হেডলাইন বানানো ঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রোলিং আমাদের প্রভাবিত করেনি। আমরা জানতাম, ভালোবাসা থাকলে অন্যদের মতামত গুরুত্বহীন।”
📌 উপসংহার
গওহর খান ও জায়েদ দরবারের সম্পর্ক প্রমাণ করে যে বয়সের পার্থক্য ভালোবাসার পথে বাধা নয়। মিডিয়া ও সমাজের অনুমানকে পাশ কাটিয়ে তাঁরা তাঁদের সম্পর্ককে সম্মান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। গওহরের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়, এটি একটি সামাজিক বার্তা—যেখানে সম্পর্কের গভীরতা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।
