পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ২৫ জুনকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি চরম উপহাস। তিনি এই সিদ্ধান্তকে “ভণ্ডামির চূড়ান্ত উদাহরণ” বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই দিবস পালন করবে না।
🗣️ “যাঁরা সংবিধান মানেন না, তাঁরাই এখন নীতির কথা বলছেন”
মমতা বলেন,
“যাঁরা প্রতিদিন সংবিধানকে লঙ্ঘন করেন, তাঁরাই আজ সংবিধানের নৈতিকতা রক্ষার কথা বলছেন—এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিজেপি প্রতিদিন যেভাবে সংবিধানকে দুর্বল করছে, তাতে প্রতিদিনই সংবিধান হত্যা দিবস পালন করা যায়।”
🏛️ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
- মহারাষ্ট্র ও বিহারে নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়া
- নির্বাচন কমিশন ও সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নষ্ট করা
- দমনমূলক নীতির মাধ্যমে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ
- দমননীতির মাধ্যমে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট
💬 “৮ নভেম্বর হোক ‘অর্থনীতি ধ্বংস দিবস’”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নোটবন্দির সিদ্ধান্তকেও কটাক্ষ করে বলেন,
“যেভাবে নোটবন্দির নামে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে, ৮ নভেম্বরকেও ‘অর্থনীতি ধ্বংস দিবস’ হিসেবে পালন করা উচিত।”
🧭 “দেশ চালাচ্ছেন কে—প্রধানমন্ত্রী না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?”
তিনি কটাক্ষ করে বলেন,
“দেশের প্রধানমন্ত্রী কে—নরেন্দ্র মোদি না অমিত শাহ? দেখলে মনে হয় অমিত শাহ-ই দেশ চালাচ্ছেন।”
📌 প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে কেন্দ্র ঘোষণা করে, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তিতে ২৫ জুনকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে, যা কংগ্রেস শাসনের সময় গণতন্ত্রের উপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বর্তমান শাসকেরাই সংবিধানকে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করছেন।
