৫ বছর পর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আজ বেজিংয়ে পা রাখলেন। তার এই সফরকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সীমান্ত উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিশ্ব রাজনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বেজিং বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রদীপ রাওয়াত ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
সফরের মূল উদ্দেশ্য
- লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনা
- বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা
- ব্রিকস, SCO-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা বৃদ্ধি
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময়
- চলমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
জয়শঙ্করের মন্তব্য
সফর শুরুর আগে দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভারত-চীন সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সীমান্তই দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি। এই সফরে সেই বিষয়েই জোর দেওয়া হবে।”
বৈঠকের সম্ভাব্য এজেন্ডা
| বিষয় | আলোচনার উদ্দেশ্য |
|---|---|
| সীমান্ত সমস্যা | লাদাখে ডিমার্কেশন ও সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত |
| বাণিজ্য | চীনা পণ্যের উপর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা, ভারতে বিনিয়োগ |
| আঞ্চলিক নিরাপত্তা | ইন্দো-প্যাসিফিক, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা |
| বহুপাক্ষিক মঞ্চ | ব্রিকস, SCO, G20-তে সমন্বয় |
| শিক্ষা ও পর্যটন | শিক্ষার্থী ভিসা, টুরিস্ট ভিসা চালু |
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য
চীনের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে চীন স্বাগত জানাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠন, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও মতপার্থক্য মেটাতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?
১. দীর্ঘ বিরতি – ২০১৯ সালের পর প্রথমবার বেজিং সফর করছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২. সীমান্তে উত্তেজনা – গালওয়ান সংঘর্ষের পর এখনও দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি, প্রায় ৭০ হাজার সৈন্য মোতায়েন।
৩. বাণিজ্য ঘাটতি – ভারতের চীনের সাথে বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
৪. গ্লোবাল পলিটিক্স – ব্রিকস সম্প্রসারণ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও চীন-আমেরিকা প্রতিযোগিতা নিয়ে যৌথ অবস্থান গড়ার সম্ভাবনা।
দুই দেশের বাণিজ্য চিত্র
| অর্থবছর | ভারতীয় রপ্তানি (US$ bn) | চীনা রপ্তানি (US$ bn) | বাণিজ্য ঘাটতি (US$ bn) |
|---|---|---|---|
| ২০২০-২১ | ২১ | ৬৫ | -৪৪ |
| ২০২১-২২ | ২৭ | ৮৭ | -৬০ |
| ২০২২-২৩ | ২৯ | ৯২ | -৬৩ |
| ২০২৩-২৪ (প্রাক্কলন) | ৩১ | ৯৮ | -৬৭ |
অতীতের গুরুত্বপূর্ণ সফর
| বছর | সফরকারী | উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ২০১৫ | প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | অর্থনৈতিক ও সীমান্ত সহযোগিতা |
| ২০১৭ | NSA অজিত ডোভাল | ডোকলাম স্ট্যান্ডঅফ সমাধান |
| ২০১৯ | এস জয়শঙ্কর | ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত আলোচনা |
| ২০২৫ | এস জয়শঙ্কর | সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও সীমান্ত স্থিতি |
কূটনৈতিক বিশ্লেষণ
বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় পাণ্ডে বলেন, “এই সফর দেখাবে ভারত-চীন সম্পর্ক কোন দিকে যাবে। যদি সীমান্ত সমস্যা না মেটে, তবে বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর হবে।”
চীনের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গ
এই সফরের মধ্যেই চীনে অর্থনৈতিক মন্দা, যুব বেকারত্ব ও রিয়েল এস্টেট সংকট রয়েছে। ফলে চীনও চায় ভারতসহ বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করতে।
উপসংহার
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে সীমান্ত সমস্যা সমাধানই হবে মূল চাবিকাঠি। তা না হলে বাণিজ্য ও কূটনীতিতে কাঙ্খিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, সফরের পর জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সরকারি ব্রিফিং, সংবাদ সংস্থা এবং কূটনৈতিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার প্রকৃতি অনুযায়ী বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হতে পারে। কোনও নীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দয়া করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেখুন।
