মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভ্রমণ পরামর্শে মেঘালয় ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করে ‘অসুরক্ষিত’ হিসেবে চিহ্নিত করায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তিনি জানিয়েছেন, এই পরামর্শ “সম্পূর্ণ ভুল” এবং তিনি শীঘ্রই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া
শিলংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংমা বলেন, “এই ধরনের পরামর্শ রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। আমরা মার্কিন দূতাবাসকে অনুরোধ করব এটি প্রত্যাহার করতে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেও আলোচনা করবেন।
পর্যটনের উপর প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ
মেঘালয়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টাইন্সংও এই পরামর্শকে “দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “মেঘালয় বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য।” পর্যটনমন্ত্রী পল লিংদোহ জানান, রাজ্য সরকার পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে ₹১,০০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করছে এবং চলতি বছরে ২০ লক্ষ পর্যটক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন পরামর্শে কী বলা হয়েছে?
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের লেভেল-২ ভ্রমণ পরামর্শে নাগরিকদের মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু রাজ্যে সফরের আগে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে মেঘালয়, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশকে ‘সহিংসতা ও অপরাধপ্রবণ’ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: “মেঘালয় নিরাপদ, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিন”
সাংমা বলেন, “আমরা মার্কিন দূতাবাসকে বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করব, যাতে তারা বুঝতে পারে এই পরামর্শ কতটা ভিত্তিহীন।” তিনি মিডিয়াকেও আহ্বান জানান, যেন তারা রাজ্যের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে এবং ভুল ধারণা দূর করতে সহায়তা করে।
🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন মেঘালয় সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট ও আন্তর্জাতিক পর্যটন নীতির প্রভাব জানতে।
