১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল চুক্তি ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষের মুখে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার চুক্তির নিয়মাবলি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে। মূল কারণ—পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে বেড়ে চলা জলচাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কৌশলগত প্রয়োজনে চুক্তির আধুনিকীকরণ।
🌊 কেন বদল চায় ভারত?
- ভারত চায় আরও ৩০,০০০–৩৫,০০০ কিউসেক জল মার্চ-মে মাসের শুকনো মৌসুমে, যা বর্তমানে চুক্তির আওতায় নেই
- ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে হুগলি নদীতে জল প্রবাহ বজায় রাখতে এবং কলকাতা বন্দরের কার্যকারিতা রক্ষা করতে অতিরিক্ত জল প্রয়োজন
- সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নগর জলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
📜 বর্তমান চুক্তির সীমাবদ্ধতা
- চুক্তিতে ন্যূনতম গ্যারান্টি ফ্লো নেই—৫০,০০০ কিউসেকের নিচে নামলে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা হয়েছে
- শুধুমাত্র ফারাক্কা পয়েন্টে জল ভাগাভাগির কথা বলা হয়েছে, গোটা গঙ্গা অববাহিকার প্রবাহ বিবেচনায় আনা হয়নি
- বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে ৩৯ বার তারা নির্ধারিত জল পায়নি
🧭 নতুন চুক্তির সম্ভাব্য রূপরেখা
- ১০–১৫ বছরের জন্য স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, যাতে সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা যায়
- উভয় দেশের জলচাহিদা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় রেখে নতুন ফর্মুলা
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারও কেন্দ্রের সঙ্গে একমত, বর্তমান চুক্তি তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না
🌐 কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত করেছে। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি পুনর্নবীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে চাইছে।
“চুক্তির কাঠামো বদল না হলে ভবিষ্যতে জলসংকট আরও তীব্র হতে পারে,” বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔁 এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন গঙ্গা জল চুক্তির ভবিষ্যৎ ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জলনীতি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে।
