ত্রিপুরা রাজ্য তার পর্যটন মানচিত্রে নতুন পালক যুক্ত করতে চলেছে। আগামী দিনে আগরতলার নিকটে নির্মিত হবে দেশের বৃহত্তম নটরাজ মূর্তি ও এক অনন্য স্কাইওয়াক ব্রিজ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরা শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়, সমগ্র দেশের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চায়।
প্রকল্পের বিস্তারিত
ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই নটরাজ মূর্তির উচ্চতা হবে প্রায় ১৯৮ ফুট। এটি হবে দেশের সর্বোচ্চ নটরাজ মূর্তি, যা তাম্র, ব্রোঞ্জ ও স্টিলের সমন্বয়ে তৈরি হবে। পাশাপাশি নির্মিত হবে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ স্কাইওয়াক ব্রিজ, যা দর্শনার্থীদের জন্য অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
| প্রকল্প | বিবরণ | অনুমানিত ব্যয় |
|---|---|---|
| নটরাজ মূর্তি | ১৯৮ ফুট উচ্চতা, ব্রোঞ্জ ও স্টিল | প্রায় ₹১৫০ কোটি |
| স্কাইওয়াক ব্রিজ | ৫০০ মিটার, গ্লাস বডি | প্রায় ₹১২০ কোটি |
| পার্কিং ও সুবিধা | মাল্টিলেভেল পার্কিং, ফুডকোর্ট, সুরক্ষা ব্যবস্থা | প্রায় ₹৩০ কোটি |
সরকারের লক্ষ্য ও বক্তব্য
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এই প্রকল্প ত্রিপুরার গর্ব। এর মাধ্যমে ধর্মীয় পর্যটন, সংস্কৃতি ও রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একসাথে এগোবে। স্থানীয় যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলবে।”
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মত
বিশিষ্ট পর্যটন বিশ্লেষক দিব্যেন্দু দত্তের মতে, “নটরাজ মূর্তি একটি সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের আকর্ষণ। একদিকে শৈবতত্ত্বের গৌরব, অন্যদিকে স্কাইওয়াক ব্রিজ আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন – দুই মিলে ত্রিপুরার পর্যটন রাজস্ব বহুগুণ বাড়াবে।”
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
সরকারের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই মূর্তি ও ব্রিজ চালু হলে বছরে প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ পর্যটক রাজ্যে আসতে পারেন। এর ফলে হোটেল, খাবার দোকান, ট্যুর গাইড ও স্থানীয় হস্তশিল্প শিল্পীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে।
| সম্ভাব্য প্রভাব | বিবরণ |
|---|---|
| পর্যটন বৃদ্ধি | ৩০-৪০ লক্ষ দর্শনার্থী প্রত্যাশিত |
| কর্মসংস্থান | প্রায় ১০,০০০ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত |
| রাজস্ব | বছরে প্রায় ₹৫০০ কোটি আয়ের লক্ষ্য |
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
নটরাজ শিবের ‘তাণ্ডব’ রূপ, যা সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও প্রলয়ের প্রতীক। এই মূর্তি রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন মর্যাদা দেবে। বিশেষ করে শৈব তীর্থযাত্রী ও ভক্তদের কাছে এই স্থান হয়ে উঠবে অপরিহার্য গন্তব্য।
স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সংযোগ
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে ত্রিপুরার কাঠ ও বাঁশ শিল্প। মূর্তির পাদদেশে গড়ে তোলা হবে হস্তশিল্প বিক্রয় কেন্দ্র, যেখানে প্রদর্শিত হবে স্থানীয় বুনন, বাঁশ শিল্প, মাটির জিনিসপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী।
নির্মাণকাল ও উদ্বোধন
- নির্মাণকাল: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু, ২০২৮ সালের মধ্যে সমাপ্তির লক্ষ্য।
- প্রধান নির্মাতা সংস্থা: Larsen & Toubro, Tata Projects ও স্থানীয় সাব-ঠিকাদাররা যৌথভাবে দায়িত্বে থাকবে।
স্কাইওয়াক ব্রিজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- গ্লাস ফ্লোরিং, নিচে সবুজ অরণ্য দৃশ্য
- রাতে বিশেষ LED আলোকসজ্জা
- হুইলচেয়ার ও প্রবীণদের চলাচলের ব্যবস্থা
- সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য সিসিটিভি ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গিয়ার
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দল কংগ্রেস ও সিপিএম বলছে, “রাজ্য যখন বেকারত্ব ও স্বাস্থ্য সংকটে জর্জরিত, তখন এমন প্রকল্প অগ্রাধিকারের বাইরে।” তবে সরকার দাবি করেছে, “পর্যটন বৃদ্ধি রাজস্ব ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সার্বিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।”
জনমত
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন প্রথমে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- টুইটার প্রতিক্রিয়া:
“নটরাজ মূর্তি হবে ত্রিপুরার তাজমহল।” – @tripura_love
“অসাধারণ উদ্যোগ, তবে স্বাস্থ্যখাতেও নজর দিন।” – @realvoiceNE
উপসংহার
ত্রিপুরা সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে। নটরাজ মূর্তি ও স্কাইওয়াক ব্রিজ পর্যটন, ধর্মীয় দর্শন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মেলবন্ধন ঘটাবে। তবে সমান্তরালে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতেও সমান গুরুত্ব প্রয়োজন – এমনই অভিমত অর্থনীতি ও সামাজিক বিশেষজ্ঞদের।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সরকারি বিবৃতি, পর্যটন বিশেষজ্ঞ মতামত ও সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রকল্প ব্যয় ও সময়সীমা বাস্তবে পরিবর্তিত হতে পারে। কোনও বিনিয়োগ, সফর পরিকল্পনা বা নীতি-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন।
