ত্রিপুরার পশ্চিম জেলার রামনগরে এক জনসভায় বিজেপি সাংসদ ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ঘোষণা করেছেন যে তিনি কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লাইটহাউস প্রকল্পের জন্য ₹৪৯ কোটি অতিরিক্ত অনুদান চেয়েছেন। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ভার্চুয়ালি স্থাপন করেছিলেন। প্রকল্পের আওতায় ১,০০০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
🏗️ প্রকল্পের স্থবিরতা: বাজেট ঘাটতির কারণ
বিপ্লব দেব জানান, প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ অর্থ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। আখাউড়া এলাকায় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যা একটি জলাভূমি। সেখানে পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে, যা ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) প্রস্তুতের সময় অনুমান করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পের কাজ মাঝপথে থেমে গেছে।
তিনি বলেন, “খট্টরজি আমাকে জানিয়েছেন যে অতিরিক্ত অনুদানের প্রস্তাব মন্ত্রকের আইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে অনুমোদনের জন্য, যাতে ভবিষ্যতে অডিটে সমস্যা না হয়। আমি অনুরোধ করেছি অন্তত ₹২০–২৫ কোটি দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হোক, যাতে কাজ আবার শুরু করা যায়।”
📊 প্রকল্পের মূল তথ্য
| প্রকল্পের নাম | লাইটহাউস হাউজিং প্রকল্প, ত্রিপুরা |
|---|---|
| ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন | ২০২১ (ভার্চুয়ালি, প্রধানমন্ত্রী মোদী) |
| নির্মাণ লক্ষ্য | ১,০০০টি আবাসিক ফ্ল্যাট |
| অবস্থান | আখাউড়া, পশ্চিম ত্রিপুরা |
| প্রাথমিক বরাদ্দ | অজানা (শেষ হয়ে গেছে) |
| অতিরিক্ত অনুদানের দাবি | ₹৪৯ কোটি |
| প্রকল্পের সমস্যা | জলাভূমিতে পাইলিং খরচ, DPR ত্রুটি |
🧱 লাইটহাউস প্রকল্প: ভবিষ্যতের আবাসন ভিশন
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরায় দ্রুত ও টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক আবাসন সুবিধা প্রদান করা হবে। এটি PMAY (Pradhan Mantri Awas Yojana)-এর আওতায় একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। লাইটহাউস প্রকল্পের মাধ্যমে:
- কম সময়ে নির্মাণ
- কম খরচে আবাসন
- পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি
- নাগরিকদের জন্য উন্নত জীবনযাত্রা
🗣️ রাজনৈতিক বার্তা ও মন্তব্য
বিপ্লব দেব তাঁর বক্তব্যে বামপন্থী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কমিউনিস্টদের অনুরোধ করছি ‘মন কি বাত’ শুনতে। এতে তাঁরা ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্তি পাবেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে নিয়ে কিছু বলেন না, বরং পরিবর্তনশীল ভাবনা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন।”
এই মন্তব্যে রাজনৈতিক তীব্রতা থাকলেও, মূল বার্তা ছিল উন্নয়নমূলক প্রকল্পে রাজনৈতিক মতভেদ না রাখা।
🔍 প্রকল্প স্থবিরতার প্রভাব
ত্রিপুরার নাগরিকদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এটি আশার আলো। কিন্তু বাজেট ঘাটতির কারণে কাজ থেমে যাওয়ায়:
- স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ
- নাগরিকদের আবাসন প্রত্যাশা বিলম্বিত
- সরকারি প্রকল্পে আস্থা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা
📌 উপসংহার
ত্রিপুরার লাইটহাউস প্রকল্প শুধুমাত্র একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, এটি রাজ্যের আবাসন উন্নয়নের প্রতীক। বিজেপি সাংসদ বিপ্লব দেবের ₹৪৯ কোটি অতিরিক্ত অনুদানের দাবি প্রকল্পের পুনরায় শুরু ও দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পের DPR ত্রুটি ও বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার নাগরিকদের জন্য তা হবে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত বা বিনিয়োগ পরামর্শ নয়।
