আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যেসব ব্যক্তিদের উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই জমি, মাছের খামার ও পাকা বাড়ির মালিক, তাঁদের ‘গরিব’ বলে চিহ্নিত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিরোধীদের ‘ভিকটিম ন্যারেটিভ’ নির্মাণের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং রাজ্যের ভূমি পুনরুদ্ধার অভিযানকে ন্যায়সঙ্গত বলে দাবি করেছেন।
🏠 উচ্ছেদ অভিযান: প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
- আসাম সরকারের ভূমিকা: ২০২৫ সালের জুন থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে রাজ্যজুড়ে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অধিকাংশই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম।
- অভিযানের লক্ষ্য: বনভূমি, জলাভূমি, রিজার্ভ ফরেস্ট, নামঘর, সত্র ও সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরানো।
- বিরোধীদের অভিযোগ: উচ্ছেদকৃতদের অনেকেই এনআরসি তালিকাভুক্ত ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা নদীভাঙনের কারণে নতুন স্থানে বসতি গড়েছেন।
🗣️ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্ট
- “যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেই বারপেটা, ধুবরি, গোলপাড়া জেলায় জমির মালিক। তাঁরা মাছের খামার চালান, পাকা বাড়িতে থাকেন। এঁদের ‘গরিব’ বলা রাজনৈতিক নাটক।”
- “আমরা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জমি রক্ষা করছি। উচ্ছেদ অভিযান শুধুমাত্র সন্দেহভাজন বিদেশিদের বিরুদ্ধে।”
- “বিরোধীরা যদি এতই সহানুভূতিশীল হন, তাহলে তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় দিন, নয়তো দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাংলোতে পাঠান।”
📊 উচ্ছেদকৃতদের সম্পত্তি মালিকানা বিশ্লেষণ
| সম্পত্তির ধরন | মালিকানা শতাংশ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জমি | 65% | অধিকাংশের নিজস্ব জমি আছে |
| মাছের খামার | 40% | বানিজ্যিকভাবে পরিচালিত |
| পাকা বাড়ি | 55% | স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ |
| কৃষি সরঞ্জাম | 30% | চাষাবাদের জন্য ব্যবহৃত |
🧭 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- কংগ্রেস: গৌরব গগৈ দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা অবৈধভাবে জমি দখল করেছেন, যা ক্ষমতায় এলে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
- AIUDF: হাফিজ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার নামে হয়রানি চলছে।
- আসাম জাতীয় পরিষদ: লুরিনজ্যোতি গগৈ অভিযোগ করেছেন, উচ্ছেদ অভিযানে আদানি-অম্বানির মতো শিল্পপতিদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে।
🧮 উচ্ছেদ অভিযান: জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণ
| জেলা | উচ্ছেদ পরিবার সংখ্যা | জমি পুনরুদ্ধার (বিঘা) | প্রধান জনগোষ্ঠী |
|---|---|---|---|
| গোলপাড়া | 1700 | 12,000 | বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম |
| ধুবরি | 1200 | 9,500 | বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম |
| লখিমপুর | 800 | 7,000 | মিশ্র জনগোষ্ঠী |
| নলবাড়ি | 600 | 5,200 | আদিবাসী ও মুসলিম |
| জোরহাট | 400 | 3,800 | অসমীয়া ও মুসলিম |
🛡️ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
- ভূমি অধিকার রক্ষা: “অসমীয়া জনগণের ভূমি অধিকার রক্ষা করাই আমার অঙ্গীকার।”
- উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে: “২০১৬ সাল থেকে ১.৪৯ লক্ষ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করেছি। অভিযান চলবে।”
- শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান: “সংস্কৃতি ও বিশ্বাস রক্ষায় প্রতিবাদ করুন, কিন্তু আইন মেনে।”
🧠 জনমত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
- স্থানীয়দের মতামত: “আমরা চাই ভূমি দখলমুক্ত হোক, কিন্তু যাঁরা প্রকৃত গৃহহীন, তাঁদের পুনর্বাসন জরুরি।”
- সামাজিক সংগঠন: “উচ্ছেদ অভিযানে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ হোক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারণা নয়।”
📌 ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ
- ভূমি নীতির সংস্কার: বিরোধীরা ভূমি ও অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
- নাগরিকত্ব বিতর্ক: NRC তালিকাভুক্তদের উচ্ছেদ নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠছে।
- ভোটার তালিকা পরিশোধন: SIR নিয়ে বিতর্ক চলছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণ শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।
