ত্রিপুরা রাজ্যে মাদকাসক্তির হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে HIV সংক্রমণের ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদক ও এইচআইভি আমাদের সমাজের জন্য বড় হুমকি। স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”
🧠 স্কুল পাঠ্যক্রমে যৌন শিক্ষা ও এইচআইভি সচেতনতা
ত্রিপুরা AIDS Control Society-এর উদ্যোগে বিধানসভা ভবনে আয়োজিত এক সচেতনতা সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের স্কুল পাঠ্যক্রমে ক্লাস ৮ থেকে ১২ পর্যন্ত যৌন শিক্ষা ও HIV/AIDS বিষয়ক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
| শ্রেণি | বিষয় অন্তর্ভুক্তি | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| ক্লাস ৮–১২ | যৌন শিক্ষা, HIV | সচেতনতা, প্রতিরোধ, সহানুভূতি |
তিনি বলেন, “যদি নেতারা তাদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে অন্তত পাঁচ মিনিট এই বিষয়ে কথা বলেন, তাহলে সমাজে বড় পরিবর্তন আসবে।”
🚨 মাদকবিরোধী অভিযান: পরিসংখ্যান ও অগ্রগতি
ত্রিপুরা সরকার ২০১৮ সাল থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে। গত তিন বছরে রাজ্য পুলিশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
| বছর | মামলা | গ্রেপ্তার | গাঁজা ধ্বংস (গাছ) | বাজেয়াপ্ত মাদক (মূল্য ₹ কোটি) |
|---|---|---|---|---|
| ২০২২ | ৫৬২ | ৭৫৯ | — | — |
| ২০২৩ | ৬৩৩ | ১,০৫২ | — | — |
| ২০২৪ | ৪০৭ | ৮৮৬ | ২,৪৫,৯১,২৫৮ | ১,৫৮৭.৪৭ |
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২০২৪ সালে গাঁজা ধ্বংসের পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মাদকের বাজারমূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল।”
🧬 HIV/AIDS পরিস্থিতি ও পুনর্বাসন
ত্রিপুরায় বর্তমানে ৩,৪৩৩ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের মাসিক ₹২,০০০ অনুদান প্রদান করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৫,৫২০ জন ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারী OST (Opioid Substitution Therapy) কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৬১২ জন সফলভাবে পুনর্বাসিত হয়েছেন।
| কেন্দ্র | চিকিৎসাপ্রাপ্ত | পুনর্বাসিত | নতুন কেন্দ্র (২০২৪–২৫) |
|---|---|---|---|
| OST কেন্দ্র | ৫,৫২০ | ৬১২ | ধলাই, দক্ষিণ ত্রিপুরা |
🏫 স্কুল ও কলেজে সচেতনতা কর্মসূচি
IEC (Information, Education, Communication) কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে সচেতনতা অভিযান চালানো হয়।
| ক্ষেত্র | সংখ্যা | অংশগ্রহণকারী |
|---|---|---|
| গ্রাম | ৬৬৩ | ১৫,৫৬,৬৮৯ জন |
| স্কুল | ৪০১ | শিক্ষক ও ছাত্র |
| কলেজ | ৩৬ | ছাত্র-ছাত্রী |
| LED স্ক্রিন প্রচার | ২১ | সর্বজনীন বার্তা |
🧒 যুব সমাজের জন্য বিকল্প উদ্যোগ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত করতে হবে। এতে তারা মাদক ও এইচআইভি থেকে দূরে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “ত্রিপুরা ভারতে প্রথম রাজ্য যেখানে স্কুলে Red Ribbon Club চালু হয়েছে।”
🗣️ মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
- “এইচআইভি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ভাইরাস। আমাদের দলমত নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে লড়াই করতে হবে।”
- “যুব সমাজকে সচেতন করতে ‘ইয়ুথ অ্যাম্বাসাডর’ তৈরি করতে হবে।”
- “MLA ফান্ড থেকে HIV/AIDS রোগীদের সাহায্য করা যেতে পারে।”
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণ শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়।
