ত্রিপুরায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা, রাজ্যজুড়ে নজরদারির আহ্বান

ত্রিপুরা রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযান নতুন মাত্রা পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে এবং বিধানসভায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত কেউ রেহাই পাবে না। এখনো সময় আছে—নিজেকে সংশোধন করুন, না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি রাজ্যজুড়ে পুলিশ, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

🛡️ মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

  • “ত্রিপুরা এখন আর মাদক চক্রের করিডর নয়। আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”
  • “যারা মাদক ব্যবসায় যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
  • “ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মাদক প্রবণতা বাড়ছে, অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।”

ড. সাহা, যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন, জানান যে ২০২৪ সালে রাজ্যে মাদক ধ্বংস ও বাজেয়াপ্তকরণে রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য এসেছে। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা এখন মাদকমুক্ত রাজ্য গঠনের পথে।”

📊 গত তিন বছরের মাদকবিরোধী অভিযানের পরিসংখ্যান

বছরমামলাগ্রেপ্তারধ্বংসকৃত গাঁজা গাছবাজেয়াপ্ত মাদক (মূল্য ₹ কোটি)
২০২২৫৬২৭৫৯
২০২৩৬৩৩১,০৫২
২০২৪৪০৭৮৮৬২,৪৫,৯১,২৫৮১,৫৮৭.৪৭

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে মোট ১,৬৬৫টি মামলা রুজু হয়েছে এবং ২,৬৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

💊 বাজেয়াপ্ত মাদকের পরিমাণ (২০২২–২০২৪)

মাদকদ্রব্যবাজেয়াপ্ত পরিমাণ
গাঁজা১,৫৪,৬৫৮ কেজি
কফ সিরাপ৫,৮২,১০০ বোতল
নারকোটিক ট্যাবলেট২৫,৬২,৭৯১টি
হেরোইন৩৪,৯৭১ গ্রাম

🧭 প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সচেতনতা কর্মসূচি

  • ‘নেশা মুক্ত ভারত অভিযান’: রাজ্যজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু
  • স্কুলে Red Ribbon Club: HIV/AIDS ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য
  • অভিভাবকদের ভূমিকা: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের আচরণে নজর রাখতে হবে। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—সব জানা জরুরি”

🏫 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা

শ্রেণিসচেতনতা কার্যক্রমলক্ষ্য
ক্লাস ৮–১২Red Ribbon Club, সেমিনারমাদক ও HIV সম্পর্কে সচেতনতা
কলেজক্যাম্পেইন, পোস্টারছাত্রদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি

🗣️ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্ট

  • “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, সামাজিক দায়িত্বও নিতে হবে।”
  • “শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত সচেতনতা সভা করা।”
  • “ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

🔍 মাদক চক্রের করিডর হিসেবে ত্রিপুরা

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি ত্রিপুরাকে মাদক পাচারের করিডর হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে রাজ্য সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে।

📌 ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

  • স্কুল পাঠ্যক্রমে মাদকবিরোধী অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত
  • State Level Drug-Free India Campaign Committee গঠন
  • নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি বৃদ্ধি
  • আন্তর্জাতিক সীমান্তে BSF ও রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযান

👨‍👩‍👧 অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে AIDS সচেতনতা কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের গতিবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকা। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—সব জানা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “ভালো ছাত্ররাও কখনো কখনো খারাপ প্রভাবের শিকার হয়। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকরা একযোগে কাজ করলে মাদকবিরোধী লড়াই সফল হবে।”

🧠 ছাত্রদের জন্য বার্তা

  • আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে
  • খারাপ প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে
  • প্রয়োজনে শিক্ষকদের জানাতে হবে

🎓 সমাজের প্রতি আহ্বান

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, NGO—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।” তিনি জানান, “ত্রিপুরা সরকার শিশু বিবাহ প্রতিরোধেও সচেতনতা বাড়াচ্ছে এবং পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা করছে।”


Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সরকারি ভাষণ, পরিসংখ্যান ও জনসচেতনতা কর্মসূচির ভিত্তিতে প্রস্তুত। এতে উল্লিখিত তথ্য শুধুমাত্র পাঠকের জ্ঞাতার্থে। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচার বা আইনগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *