আগরতলার পানীয় জলের সংকট মেটাতে তিতাস নদীর জল ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার ৫১টি ওয়ার্ডে পানীয় জলের সংকট দীর্ঘদিনের। ভূগর্ভস্থ লোহার মিশ্রিত জল পরিশোধন করে সরবরাহ করলেও তা পর্যাপ্ত নয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব দিয়েছেন—বাংলাদেশের তিতাস নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলার নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ করা হবে।

এই প্রস্তাবটি তিনি বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমি সহকারী হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের রাজ্য তিতাস নদীর জল ব্যবহার করতে পারে। যদি বাংলাদেশ সম্মতি দেয়, তাহলে আমরা বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করব।”

🧭 প্রস্তাবনার পটভূমি ও গুরুত্ব

বিষয়বিবরণ
প্রস্তাবের উৎসমুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা
আলোচনার স্থানআগরতলা, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক
উদ্দেশ্যআগরতলার ৫১টি ওয়ার্ডে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ
সম্ভাব্য সুবিধালোহার মিশ্রিত ভূগর্ভস্থ জলের বিকল্প, স্বাস্থ্যকর জল

তিতাস নদী বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা থেকে উৎপন্ন হয়ে আগরতলার নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীতে মিলিত হয়। এই নদী ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মাত্র ৫–১২ কিলোমিটার দূরত্বে প্রবাহিত হওয়ায় জল সংগ্রহের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

📊 আগরতলার পানীয় জলের বর্তমান চিত্র

জল সরবরাহ উৎসসমস্যাপ্রভাব
ভূগর্ভস্থ জললোহার উপস্থিতি, পরিশোধন ব্যয়বহুলস্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিশোধন ব্যয় বৃদ্ধি
হাওড়া নদীমৌসুমি প্রবাহ, দূষণনিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সম্ভব নয়
তিতাস নদী (প্রস্তাবিত)আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনবিশুদ্ধ, iron-free জল সরবরাহ সম্ভব

🔍 বাংলাদেশে তিতাস নদীর প্রভাব ও উদ্বেগ

বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার বৈঠকে জানান, আগরতলা থেকে নির্গত অপরিশোধিত নর্দমা জল তিতাস নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় বাংলাদেশের আখাউড়া অঞ্চলে ত্বকের রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাহা জানান, “আখাউড়ার বহু মানুষ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা আমাদের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমরা জল দূষণ বন্ধ করি।”

সমস্যাউৎসসমাধানের উদ্যোগ
ত্বকের রোগআগরতলার কালাপানিয়া ও কাটাখাল নর্দমাআধুনিক পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন
নদীর সিলটেশনতিতাস নদীর প্রবাহে বাধাবাংলাদেশে ডেসিলটিং প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে
জল দূষণঅপরিশোধিত নর্দমা জলপরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের নির্দেশ

🧠 বিকল্প পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলার পানীয় জলের চাহিদা পূরণে গোমতী নদী থেকে জল আনার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তিতাস নদীর জল ব্যবহারের অনুমতি পেলে এই পরিকল্পনা আর প্রয়োজন হবে না। এতে ভূগর্ভস্থ লোহার মিশ্রিত জল পরিশোধনের প্রয়োজনীয়তা কমবে।

পরিকল্পনাঅবস্থাসম্ভাব্য ফলাফল
গোমতী নদী থেকে জলবাস্তবায়ন হয়নিবিকল্প উৎসের অভাব
তিতাস নদী থেকে জলপ্রস্তাবিত, বাংলাদেশ সম্মতির অপেক্ষাiron-free বিশুদ্ধ জল সরবরাহ সম্ভব
আধুনিক পরিশোধন প্ল্যান্টআখাউড়ায় স্থাপিত, উন্নয়নের নির্দেশনদীর জলমান উন্নয়ন

🔥 শহর উন্নয়ন ও টাউনশিপ প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী সাহা সম্প্রতি আগরতলায় বিবেকানন্দ টাউনশিপ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যেখানে ৪৮টি ফ্ল্যাট নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে। তিনি জানান, “আমরা উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ₹৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।”

প্রকল্প নামবিবরণব্যয়
বিবেকানন্দ টাউনশিপ৪৮টি ফ্ল্যাট, ভূমিকম্প প্রতিরোধী₹৮০০ কোটি (মোট উন্নয়ন প্রকল্প)
ভবানীপুর প্রকল্প২১৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন₹৯৬ কোটি, মার্চ ২০২৬-এ সম্পন্ন হবে
GIS মাস্টার প্ল্যানআগরতলা সহ ২০টি শহরের পরিকল্পনাপ্রথম পর্যায়ে ₹৫৩০ কোটি, ADB সহায়তায়

📌 উপসংহার

ত্রিপুরা সরকারের তিতাস নদীর জল ব্যবহারের প্রস্তাব শুধু আগরতলার পানীয় জলের সংকট সমাধানের পথ নয়, এটি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ও হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে—স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্য এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনার সমন্বয়ে।

বাংলাদেশের সম্মতি পেলে এই উদ্যোগ হবে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা দুই দেশের জনগণের জন্যই উপকারী হবে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ৩০ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে রচিত এবং কোনো আইনি, রাজনৈতিক বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *