আসামে আটক তিন বঙ্গীয় পরিযায়ী শ্রমিককে মুক্তি দিল সরকার, দাবি তৃণমূলের

আসাম পুলিশের হাতে আটক হওয়া পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তিন পরিযায়ী শ্রমিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় রাজ্যসভার সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “তিনজনই ভারতীয় নাগরিক, বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। আমাদের হস্তক্ষেপেই তাঁদের মুক্তি সম্ভব হয়েছে।”

এই ঘটনা কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।

🧭 আটক ও মুক্তির সময়কাল ও বিবরণ

বিষয়বিবরণ
আটক হওয়ার তারিখ২২ আগস্ট ২০২৫
মুক্তির তারিখ৩১ আগস্ট ২০২৫
আটক স্থানহাইবারগাঁও, নাগাঁও, আসাম
শ্রমিকদের নামনজরুল ইসলাম, সানাউর মল্লিক, জহির শেখ
স্থায়ী ঠিকানাশক্তিপুর ও বেলডাঙা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ
অভিযোগবাংলাদেশি সন্দেহে আটক
পরিচয়পত্রআধার, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি
মুক্তির মাধ্যমতৃণমূল কংগ্রেস ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হস্তক্ষেপ

তিনজন শ্রমিক নাগাঁওয়ে হকারি করতে গিয়েছিলেন। স্থানীয় পুলিশ তাঁদের বাংলা ভাষায় কথা বলতে দেখে সন্দেহ করে এবং পরে তাঁদের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

🔍 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘ভাষাগত বৈষম্য’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্তা’ বলে অভিহিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধুমাত্র বাংলা বলার কারণে কাউকে বাংলাদেশি বলা যায় না। বাংলা বিশ্বের সপ্তম সর্বাধিক কথিত ভাষা। এটা ভাষার অপমান।”

রাজনৈতিক দলপ্রতিক্রিয়ামন্তব্য / দাবি
তৃণমূল কংগ্রেসভাষাগত বৈষম্য, রাজনৈতিক হেনস্তাকেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
বিজেপি (আসাম)নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপসন্দেহজনক কার্যকলাপের ভিত্তিতে তদন্ত
বামপন্থী দলসমূহমানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকলকাতায় প্রতিবাদ সভা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারনাগরিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয়পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ

এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যেখানে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) বিষয়টি আলোচনায় আসবে।

📉 পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর প্রভাব

এই ধরনের ঘটনা পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকরা এখন অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে দ্বিধায় পড়ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, “আমরা ভারতীয়, কিন্তু ভাষার কারণে আমাদের সন্দেহ করা হচ্ছে।”

প্রভাবের ধরনবিবরণ
মানসিক চাপআটক, জিজ্ঞাসাবাদ, ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা
অর্থনৈতিক ক্ষতিকাজ বন্ধ, আয় বন্ধ, জরিমানা আদায়
সামাজিক অপমানবাংলাদেশি বলে অপবাদ
আইনি জটিলতাপরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও আটক

তৃণমূলের দাবি, আটক শ্রমিকদের কাছ থেকে ₹১.৫ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছিল, যা পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

🔥 আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সাংবিধানিক প্রশ্ন

কলকাতা হাইকোর্ট এই ধরনের আটক ও ডিপোর্টেশনকে ‘ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য’ বলে অভিহিত করেছে। আদালত বলেছে, “শুধু বাংলা বলার কারণে কাউকে বিদেশি বলা যায় না। এটা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন”।

আদালতের পর্যবেক্ষণমন্তব্য
কলকাতা হাইকোর্ট“ভাষা অপরাধ নয়, নাগরিকত্বের মানদণ্ড নয়”
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী“আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যায় না”
রাজ্য সরকারের বক্তব্য“বাংলা ভাষাভাষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে”

আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

🧠 বিশ্লেষকদের মতামত

বিশ্লেষক নামপদবিমন্তব্য
ডঃ রাকেশ সিনহারাজনৈতিক বিশ্লেষক“ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলে”
প্রফেসর মীরা আইয়ারসমাজবিজ্ঞানী“পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখন জাতীয় ইস্যু”
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়মানবাধিকার কর্মী“এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি রাজ্য নয়, গোটা দেশের নাগরিক অধিকার ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের প্রশ্নে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

📦 ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বার্তা

তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাবে। পাশাপাশি, বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় বছরব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পদক্ষেপউদ্দেশ্য
সংসদে প্রশ্নকেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা
বিধানসভায় প্রস্তাবরাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা
আন্দোলনের ঘোষণাভাষার সম্মান ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা
আইনি সহায়তাআটক শ্রমিকদের জন্য আইনগত সহায়তা প্রদান

তৃণমূলের দাবি, “বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলা যাবে না। এটা ভাষার অপমান, জাতির অপমান।”

📌 উপসংহার

আসামে আটক তিন বঙ্গীয় পরিযায়ী শ্রমিকের মুক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী একটি বড় রাজনৈতিক ও মানবিক সাফল্য। এই ঘটনা ভাষাগত বৈষম্য, নাগরিক অধিকার এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্নে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদসূত্র ও সরকারি বিবৃতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং কোনো রাজনৈতিক, আইনগত বা নীতিগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *