২০২৯-৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ আলু স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ত্রিপুরা, রেকর্ড ফলন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এগিয়ে চলেছে রাজ্য

ত্রিপুরা রাজ্য কৃষিক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ ঘোষণা করেছেন যে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ত্রিপুরা সম্পূর্ণভাবে আলু উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। এই লক্ষ্যপূরণের জন্য রাজ্য সরকার পেরু-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্র (CIP)–এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রসেসিং কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

বর্তমানে ত্রিপুরায় ২৩,৭৪৬ জন কৃষক ৭,৬২২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেন। এতদিন রাজ্যকে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব ও অন্যান্য রাজ্য থেকে বীজ আলু আমদানি করতে হতো, যার গুণমান নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্য এখন রেকর্ড ফলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


🧭 আলু স্বনির্ভরতার রোডম্যাপ: সময়রেখা ও লক্ষ্য

বছর / সময়কালকার্যক্রম / অগ্রগতি
২০২২-২৩ERC (Epical Rooted Cutting) প্রযুক্তির প্রবর্তন
২০২৩১০৪ জন কৃষককে ERC চারা বিতরণ
২০২৪৪০২ জন কৃষক ERC প্রযুক্তিতে যুক্ত
২০২৫৪,০০০+ কৃষক ERC প্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত
২০২৮-২৯বীজ আলু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য
২০২৯-৩০পূর্ণ আলু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন
২০৩০-এর পরআলু রপ্তানির পরিকল্পনা ও প্রসেসিং কেন্দ্র চালু

📉 ERC প্রযুক্তির মাধ্যমে রেকর্ড ফলন

পরিমাপকপূর্ববর্তী ফলন (MT/হেক্টর)বর্তমান ফলন (MT/হেক্টর)বৃদ্ধি (%)
গড় ফলন১৯.১৬৬২.৫০+২২৫%
বার্ষিক উৎপাদন১.৪৬ লাখ MTলক্ষ্যমাত্রা: ১.৫৫ লাখ MT

আন্তর্জাতিক আলু গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক সাইমন হেক নিজেই বলেছেন, “আমি ভারতে এমন ফলন আগে কখনও দেখিনি”।


📦 ERC প্রযুক্তির সুবিধা ও প্রভাব

সুবিধা / বৈশিষ্ট্যবর্ণনা
উচ্চ ফলনপ্রতি হেক্টরে ৬০+ MT
রোগমুক্ত বীজস্বাস্থ্যকর ও গুণমানসম্পন্ন চারা
কম খরচে উৎপাদনTPS-এর তুলনায় কম শ্রম ও খরচ
প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিCIP-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ
প্রসেসিং কেন্দ্রচিপস ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ

🔍 বর্তমান চাষাবাদের চিত্র

পরিমাপকপরিমাণ / তথ্য
মোট কৃষক২৩,৭৪৬ জন
চাষের জমি৭,৬২২ হেক্টর (৪৭,৬৩৭ কানি)
বার্ষিক চাহিদা১.৫৫ লাখ MT
বর্তমান উৎপাদন১.৪৬ লাখ MT
বীজ উৎসপশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, আগরতলার গোলবাজার

🔥 CIP-এর সঙ্গে চুক্তির মূল দিক

সহযোগিতা ক্ষেত্রবিবরণ
প্রযুক্তি হস্তান্তরERC ও অন্যান্য উন্নত চাষ পদ্ধতি
গবেষণাস্থানীয় জলবায়ু ও মাটির উপযোগী জাত উন্নয়ন
প্রশিক্ষণকৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা
সার্টিফিকেশনগুণমান নিশ্চিতকরণ ও বাজারে গ্রহণযোগ্যতা
রপ্তানি পরিকল্পনাআন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরার আলু রপ্তানি

🧠 বিশেষজ্ঞ মতামত

নামপদবি / ক্ষেত্রমন্তব্য
রতন লাল নাথকৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী“ত্রিপুরা এখন আলু উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাচ্ছে”
সাইমন হেকCIP মহাপরিচালক“এমন ফলন আমি ভারতে আগে দেখিনি”
ড. রূপম ত্রিপুরাকৃষি গবেষক“ERC প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য গেম-চেঞ্জার”

📅 আগামী কর্মসূচি ও পরিকল্পনা

সময়কালকার্যক্রম
অক্টোবর ২০২৫ERC প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ কর্মশালা
জানুয়ারি ২০২৬প্রসেসিং কেন্দ্রের নির্মাণ শুরু
জুলাই ২০২৭ERC প্রযুক্তির ১০,০০০+ কৃষকে অন্তর্ভুক্তকরণ
২০২৮-২৯বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন
২০২৯-৩০পূর্ণ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা
২০৩০-এর পররপ্তানি ও বাণিজ্যিক প্রসেসিং শুরু

📌 উপসংহার

ত্রিপুরা রাজ্য আলু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে যে রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে, তা শুধু কৃষিক্ষেত্রে নয়, রাজ্যের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ERC প্রযুক্তির মাধ্যমে রেকর্ড ফলন, CIP-এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, এবং প্রসেসিং কেন্দ্র স্থাপন—এই সব মিলিয়ে ত্রিপুরা এখন আলু বিপ্লবের পথে। ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্য শুধু নিজের চাহিদা পূরণ করবে না, বরং রপ্তানির মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি, সংবাদ প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানমূলক এবং কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *