গত দুই বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বিদেশি পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, সিকিমের পরেই। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ত্রিপুরায় মোট ৮,৭৫০ জন বিদেশি পর্যটক এসেছেন, যা মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, অসম এবং অরুণাচল প্রদেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের পর্যটন নীতির সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে ত্রিপুরার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে তুলে ধরে।
ত্রিপুরা পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগরতলা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, সীমান্ত পর্যটন, ঐতিহাসিক স্থানগুলির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। বিশেষ করে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, নীরমহল, চাবিমুড়া এবং জাম্পুই হিলসের মতো গন্তব্যগুলি বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদেশি পর্যটক আগমন – রাজ্যভিত্তিক তুলনামূলক পরিসংখ্যান (২০২৩–২০২৪)
| রাজ্য | মোট বিদেশি পর্যটক (২ বছর) | গড় বার্ষিক বৃদ্ধি (%) | প্রধান আকর্ষণ |
|---|---|---|---|
| সিকিম | ১২,৪৫০ | 8.2 | গ্যাংটক, নাথুলা, লাচেন |
| ত্রিপুরা | ৮,৭৫০ | 10.6 | নীরমহল, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, চাবিমুড়া |
| মিজোরাম | ৫,200 | 6.4 | রিয়েক, চিমটুইপুই |
| মণিপুর | ৪,850 | 5.9 | লোকতাক, ইম্ফল |
| অসম | ৪,300 | 4.2 | কাজিরাঙা, মাজুলি |
| নাগাল্যান্ড | ৩,900 | 5.1 | হর্নবিল উৎসব, কোহিমা |
| অরুণাচল প্রদেশ | ৩,100 | 3.8 | তাওয়াং, জিরো |
ত্রিপুরা পর্যটন দপ্তরের সচিব শ্রী অরিন্দম দে বলেন, “আমরা বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছি, যেখানে সীমান্ত পর্যটন, হেরিটেজ ট্রেইল এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আগত পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।”
রাজ্য সরকার ‘Experience Tripura’ নামে একটি ডিজিটাল প্রচারাভিযান শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার পর্যটকদের লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
ত্রিপুরায় বিদেশি পর্যটকদের আগমনের ধরণ – উৎস দেশ ও গন্তব্য বিশ্লেষণ
| উৎস দেশ | পর্যটক সংখ্যা (২০২৩–২৪) | জনপ্রিয় গন্তব্য | ভ্রমণের উদ্দেশ্য |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | ৪,200 | আগরতলা, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ | ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক |
| যুক্তরাজ্য | 1,150 | নীরমহল, জাম্পুই হিলস | ঐতিহাসিক, প্রকৃতি পর্যটন |
| জার্মানি | 980 | চাবিমুড়া, দেবতামুড়া | অ্যাডভেঞ্চার, শিল্পকলা |
| জাপান | 720 | নীরমহল, বনভূমি | প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ |
| ফ্রান্স | 700 | উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, হেরিটেজ ট্রেইল | স্থাপত্য, ইতিহাস |
পর্যটন দপ্তরের মতে, বিদেশি পর্যটকদের গড় অবস্থানকাল ৩.৮ দিন, এবং তারা স্থানীয় হোটেল, হোমস্টে, গাইড ও হস্তশিল্পে উল্লেখযোগ্য ব্যয় করেন। এই খাতে রাজ্যে প্রায় ₹৪৫ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব সৃষ্টি হয়েছে।
ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি – নীতি ও পরিকাঠামো বিশ্লেষণ
| উদ্যোগ/নীতি | কার্যকরী বছর | প্রভাব | ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা |
|---|---|---|---|
| সীমান্ত পর্যটন নীতি | ২০২৩ | বাংলাদেশি পর্যটক বৃদ্ধি | আগরতলা–ঢাকা রুট সম্প্রসারণ |
| হেরিটেজ রুট উন্নয়ন | ২০২2 | ঐতিহাসিক স্থান পুনরুদ্ধার | নতুন ট্রেইল সংযোজন |
| ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্প | ২০২৪ | বনভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটন | জাম্পুই ও তেলিয়ামুড়া সংযুক্তিকরণ |
| ডিজিটাল প্রচারাভিযান | ২০২৫ | আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ | মাল্টি-ল্যাঙ্গুয়াল কনটেন্ট |
| হোমস্টে স্কিম | ২০২৩ | স্থানীয় অর্থনীতিতে সহায়তা | ১০০+ নতুন হোমস্টে অনুমোদন |
রাজ্য সরকার আগামী তিন বছরে বিদেশি পর্যটক সংখ্যা ২০,০০০-এ পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এর জন্য নতুন বিমান রুট, আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসব এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে পর্যটনের সংযুক্তিকরণ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া – ত্রিপুরার পর্যটন অগ্রগতিতে জনমত বিশ্লেষণ
| প্ল্যাটফর্ম | এনগেজমেন্ট | ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া (%) | শীর্ষ হ্যাশট্যাগ |
|---|---|---|---|
| Twitter/X | 1.2M mentions | 84% | #ExploreTripura #TripuraTourism |
| 1.1M interactions | 80% | #TripuraTravels #NortheastIndia | |
| 950K views | 86% | #HiddenGemTripura #TravelIndia | |
| YouTube | 870K views | 82% | #TripuraExplained #TourismGrowth |
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ত্রিপুরার এই অগ্রগতি উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন মানচিত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। “ত্রিপুরা এখন আর শুধু সীমান্ত রাজ্য নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে,” বলেন ড. রাধিকা মেনন, উত্তর-পূর্ব পর্যটন গবেষক।
আগামী নভেম্বর মাসে ত্রিপুরা সরকার ‘International Tripura Tourism Conclave’ আয়োজন করতে চলেছে, যেখানে ১৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাজ্য পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা করছে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সরকারি পরিসংখ্যান, পর্যটন দপ্তরের বিবৃতি এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এটি কোনও বিনিয়োগ বা নীতিগত পরামর্শ নয়। সমস্ত উদ্ধৃতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার নামে প্রকাশিত হয়েছে। এই কনটেন্ট শুধুমাত্র তথ্য ও সম্পাদকীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত।
