ত্রিপুরা রাজ্য সরকার যক্ষ্মা রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী টিবি মুক্ত ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে ‘নিকষয় মিত্র’ ক্যাম্পেইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আগরতলার সুকান্ত একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করে তাদের দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচি যৌথভাবে পরিচালনা করছে ত্রিপুরা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM) এবং আগরতলা রোটারি ক্লাব, যেখানে NTPC এবং NIPCO-এর মতো সংস্থাগুলিও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। রাজ্যপাল তার বক্তব্যে বলেন, “যক্ষ্মা মুক্ত ভারত গড়তে সমাজের প্রতিটি স্তরের সহযোগিতা অপরিহার্য।”
যক্ষ্মা রোগীদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য
| উপাদান | বিবরণ |
|---|---|
| কর্মসূচির নাম | নিকষয় মিত্র ক্যাম্পেইন |
| লক্ষ্য | যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টি সরবরাহ ও পুনরুদ্ধার |
| উদ্বোধন | ২৬ অক্টোবর ২০২৫, আগরতলা |
| প্রধান সংগঠন | NHM, রোটারি ক্লাব, NTPC, NIPCO |
| উপকারভোগী | সক্রিয় যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত রোগীরা |
| বিতরণ সামগ্রী | প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাদ্য, ডাল, ডিম, ফল, দুধ ইত্যাদি |
এই খাদ্য সহায়তা রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কর্মসূচির প্রভাব: পুষ্টি ও পুনরুদ্ধারের পথে
যক্ষ্মা একটি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণজনিত রোগ, যার চিকিৎসা প্রায় ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এই সময়ে রোগীদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি সেই অভাব পূরণে সহায়ক হবে।
| প্রভাব ক্ষেত্র | প্রত্যাশিত ফলাফল |
|---|---|
| রোগীর পুষ্টি | উন্নত হবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে |
| চিকিৎসার ফলাফল | দ্রুত আরোগ্য, কম রিল্যাপস |
| সামাজিক সচেতনতা | যক্ষ্মা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি |
| স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশগ্রহণ | স্থানীয় ক্লাব ও সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা |
এই কর্মসূচি শুধু চিকিৎসা নয়, বরং একটি সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির বিস্তার
ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে আগরতলা, ধলাই, উনাকোটি ও সিপাহিজলা জেলায় খাদ্য বিতরণ শুরু হয়েছে।
| জেলা | উপকারভোগীর সংখ্যা | বিতরণ কেন্দ্র | স্থানীয় অংশীদার |
|---|---|---|---|
| আগরতলা | ১২০০+ | সুকান্ত একাডেমি | রোটারি ক্লাব |
| ধলাই | ৮৫০+ | জেলা হাসপাতাল | NHM |
| উনাকোটি | ৭০০+ | CHC | NTPC |
| সিপাহিজলা | ৯৫০+ | PHC | NIPCO |
পরবর্তী পর্যায়ে কর্মসূচি রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায়ও সম্প্রসারিত হবে।
নিকষয় মিত্র: সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ
‘নিকষয় মিত্র’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সংস্থা ও ক্লাবগুলো যক্ষ্মা রোগীদের দত্তক নিয়ে তাদের চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা প্রদান করছে। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে ত্রিপুরার মন্ত্রী সুধান্শু দাস নিজ নির্বাচনী এলাকা ফতিকরয়ে রোগীদের জন্য খাদ্য বিতরণ করেছেন।
| অংশগ্রহণকারী | ভূমিকা |
|---|---|
| সুধান্শু দাস | ব্যক্তিগতভাবে রোগীদের দত্তক নিয়েছেন |
| রোটারি ক্লাব | খাদ্য বিতরণ ও সচেতনতা প্রচার |
| NTPC, NIPCO | আর্থিক সহায়তা ও লজিস্টিক |
| NHM | রোগী চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসা সমন্বয় |
এই মডেল অন্যান্য রাজ্যেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
যক্ষ্মা নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্য
ভারত সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে যক্ষ্মা মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ত্রিপুরার এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
| জাতীয় লক্ষ্য | কর্মসূচির অবদান |
|---|---|
| ২০২৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূল | রোগীদের পুষ্টি ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ |
| সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি | স্থানীয় ক্লাব ও সংস্থার অংশগ্রহণ |
| স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ | NHM-এর মাধ্যমে সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা |
ত্রিপুরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ত্রিপুরা সরকার এই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে চায়। ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য মাসিক খাদ্য কিট, মনোসামাজিক সহায়তা, এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
| পরিকল্পনা | সময়সীমা | লক্ষ্য |
|---|---|---|
| মাসিক খাদ্য কিট | নভেম্বর ২০২৫ | রোগীর পুষ্টি বজায় রাখা |
| মনোসামাজিক সহায়তা | ডিসেম্বর ২০২৫ | মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন |
| ডিজিটাল ট্র্যাকিং | জানুয়ারি ২০২৬ | রোগীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ |
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে NHM, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করবে।
উপসংহার
ত্রিপুরা সরকারের যক্ষ্মা রোগীদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি একটি মানবিক ও কার্যকর উদ্যোগ, যা রোগীদের আরোগ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক সম্মিলনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ‘নিকষয় মিত্র’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি যক্ষ্মা নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই মডেল অন্যান্য রাজ্যেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সরকারি বিবৃতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি চিকিৎসা বা নীতিগত পরামর্শ নয়। শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য।
