ধলাই জেলায় নাগরিক সমাজের বনধ চলাকালীন হিংসার ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ গ্রেফতার করল দুইজন

Tripura bandh

ত্রিপুরার ধলাই জেলার শান্তিরবাজার এলাকায় নাগরিক সমাজের ডাকা ২৪ ঘণ্টার বনধ চলাকালীন সংঘটিত হিংসার ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ শনিবার রাতে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এই বনধের ডাক দিয়েছিল নবগঠিত সংগঠন ‘ত্রিপুরা সিভিল সোসাইটি’ (TCS), যার উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ। বনধ চলাকালীন শান্তিরবাজারে সরকারি কর্মকর্তাদের উপর হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে, যা রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

ত্রিপুরা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনের নাম রিয়াজ দেববর্মা, যাকে গ্রেফতারের সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়।

বনধ চলাকালীন সংঘটিত হিংসার বিস্তারিত

ঘটনার স্থানশান্তিরবাজার, ধলাই জেলা
বনধের সময়কাল২৪ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা
সংগঠনের নামত্রিপুরা সিভিল সোসাইটি (TCS)
মূল দাবিঅবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন
আহতের সংখ্যা১২ জন, যার মধ্যে ৩ জন সরকারি কর্মকর্তা
গ্রেফতারকৃত২ জন, একজন রিয়াজ দেববর্মা

এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন সেলেমা ব্লকের বিডিও অভিজিৎ মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার অনিমেষ সাহা এবং কামালপুরের এসডিপিও সমুদ্র দেববর্মা।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এই ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “যেভাবে বনধ সমর্থকরা লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালিয়েছে, তা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে বর্বরতা।” মুখ্যমন্ত্রী আহতদের দেখতে আগরতলার জিবি পান্ত হাসপাতালে যান এবং আশ্বাস দেন যে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়াবিবরণ
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য“এই হামলা আন্দোলনের নামে কলঙ্ক”
হাসপাতাল পরিদর্শনজিবি পান্ত হাসপাতালে আহতদের দেখা
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাধলাই জেলায় ১৪৪ ধারা জারি
তদন্তপুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে তদন্তে

এই ঘটনার পর ধলাই জেলার কামালপুরে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বনধের প্রভাব ও জনজীবনে প্রভাব

ত্রিপুরা সিভিল সোসাইটির ডাকা বনধে রাজ্যজুড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়, দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও সন্ধ্যার দিকে শান্তিরবাজারে হিংসার ঘটনা ঘটে।

প্রভাব ক্ষেত্রপরিস্থিতি
পরিবহন ব্যবস্থাট্রেন চলাচল বন্ধ, বাস পরিষেবা সীমিত
ব্যবসা ও বাজারদোকানপাটে লুটপাট, বাজার বন্ধ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানস্কুল-কলেজ বন্ধ
সাধারণ মানুষআতঙ্কিত, ঘরবন্দি

এই বনধের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

ত্রিপুরা সিভিল সোসাইটির বনধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বনধ সমর্থকদের মধ্যে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দল ‘টিপরা মোথা’র কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও টিপরা মোথা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাজনৈতিক দলপ্রতিক্রিয়া
বিজেপিবনধের নামে হিংসা অগ্রহণযোগ্য
টিপরা মোথাঅভিযোগ ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
সিপিআইএমসরকারের ব্যর্থতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা
কংগ্রেসতদন্তের দাবি, দোষীদের শাস্তি

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা

ত্রিপুরা পুলিশ জানিয়েছে, হিংসার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। আরও গ্রেফতার হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনিক পরিকল্পনাসময়সীমালক্ষ্য
তদন্ত সম্পন্ন৭ দিনের মধ্যেদোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার
শান্তি রক্ষাঅবিলম্বেকারফিউ ও বাহিনী মোতায়েন
জনসচেতনতা প্রচারআগামী সপ্তাহহিংসার বিরুদ্ধে জনমত গঠন
রাজনৈতিক সংলাপচলমানবনধের উদ্দেশ্য ও বিকল্প আলোচনা

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেষ্ট।

উপসংহার

ধলাই জেলার শান্তিরবাজারে নাগরিক সমাজের বনধ চলাকালীন সংঘটিত হিংসার ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রশাসন ও সমাজের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত সংবাদ ও সরকারি বিবৃতির উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি আইনগত বা রাজনৈতিক পরামর্শ নয়। শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *