অসমের সাংস্কৃতিক জগতে এক গভীর শূন্যতা রেখে চলে গেছেন কিংবদন্তি গায়ক, অভিনেতা ও সুরকার জুবিন গার্গ। তাঁর শেষ চলচ্চিত্র ‘রই রই বিনালে’ মুক্তির প্রাক্কালে স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গার্গের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট গোটা অসমবাসীকে আবেগে ভাসিয়ে দিয়েছে। “I miss you, Goldie” — এই ছোট্ট বাক্যটি যেন হাজারো স্মৃতি, ভালোবাসা ও বেদনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
গরিমার পোস্টে ফুটে উঠেছে জুবিনের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, তাঁদের শিল্পীসত্ত্বার মিলন, এবং ‘রই রই বিনালে’ ছবির প্রতি জুবিনের আবেগ। ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ — একটি দিন যা জুবিন নিজেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সত্ত্বেও, এই ছবির মুক্তি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে উঠেছে।
গরিমার আবেগঘন বার্তা: ভালোবাসা ও স্মৃতির মেলবন্ধন
| পোস্টের মূল বার্তা | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| “I miss you, Goldie” | জুবিনের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসার প্রকাশ |
| “Look Goldie… your dream project is taking shape” | ছবির অগ্রগতি নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য |
| “Everyone is trying their best to fulfill your vision” | শিল্পীসত্ত্বার প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রতিশ্রুতি |
এই পোস্টে গরিমা জানান, ‘রই রই বিনালে’ ছিল জুবিনের আত্মার প্রতিফলন — তাঁর সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
‘রই রই বিনালে’: অসমীয়া সিনেমার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
জুবিন গার্গের শেষ চলচ্চিত্র ‘রই রই বিনালে’ মুক্তির আগেই অসমীয়া সিনেমার ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাজেশ ভূঁইয়া এবং প্রযোজনা করেছেন জুবিন ও গরিমা।
| মুক্তির তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| মুক্তির তারিখ | ৩১ অক্টোবর ২০২৫ |
| পরিচালক | রাজেশ ভূঁইয়া |
| প্রযোজক | জুবিন গার্গ ও গরিমা সাইকিয়া গার্গ |
| প্রাক-মুক্তি বুকিং | ₹৫০ লক্ষের বেশি |
| প্রথম দিনের শো সংখ্যা | ১০২+ |
| টিকিট বিক্রি | ১৩,৫০০+ |
অসমের বিভিন্ন শহরে সকাল ৬টা থেকেই শো শুরু হয়েছে, এবং অন্যান্য ছবির শো বাতিল করে ‘রই রই বিনালে’কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
জুবিনের আকস্মিক মৃত্যু: অসমের হৃদয়ে শোক
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিন গার্গের মৃত্যু ঘটে। তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে তাঁর অনুপস্থিতি অসমের সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
| মৃত্যুর তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| স্থান | সিঙ্গাপুর |
| কারণ | স্কুবা ডাইভিং/সাঁতার চলাকালীন দুর্ঘটনা |
| বয়স | ৫২ বছর |
| উদ্দেশ্য | উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবে পারফর্ম |
জুবিনের মৃত্যুতে অসমের সাংস্কৃতিক জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে, এবং তাঁর শেষ ছবিটি যেন তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা।
অসমজুড়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া: পোস্টার, প্রার্থনা ও ভালোবাসা
‘রই রই বিনালে’ ছবির মুক্তিকে কেন্দ্র করে অসমজুড়ে ভক্তরা পোস্টার লাগিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে, এবং প্রার্থনা করে তাঁদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।
| ভক্তদের উদ্যোগ | স্থান |
|---|---|
| পোস্টার লাগানো | গৌহাটি: সিক্স মাইল, গনেশগুড়ি, পাল্টন বাজার |
| সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার | #RoiRoiBinale, #ZubeenForever, #GoldieLives |
| ফ্যান ক্লাবের অংশগ্রহণ | জয়ন্ত কাকতি, মন্টুমনি সাইকিয়া নেতৃত্বে |
| প্রার্থনা সভা | বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে |
এই grassroots প্রচার যেন জুবিনের প্রতি অসমবাসীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
গরিমার শিল্পীসত্ত্বা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গরিমা সাইকিয়া গার্গ নিজেও একজন শিল্পী, যিনি জুবিনের সঙ্গে বহু সাংস্কৃতিক প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন। ‘রই রই বিনালে’ ছবির মুক্তির পর তিনি জুবিনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে নতুন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
| গরিমার পরিকল্পনা | লক্ষ্য |
|---|---|
| জুবিন স্মৃতি ফাউন্ডেশন | শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের সহায়তা |
| সাংস্কৃতিক উৎসব | অসমীয়া সংস্কৃতির প্রচার |
| শিক্ষামূলক প্রকল্প | সংগীত ও চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসার |
| স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান | জুবিনের জন্মদিনে বার্ষিক অনুষ্ঠান |
এই উদ্যোগগুলি জুবিনের শিল্পীসত্ত্বাকে জীবন্ত রাখবে।
অসমীয়া সিনেমার ভবিষ্যৎ: জুবিনের প্রভাব
জুবিন গার্গের অবদান অসমীয়া সিনেমাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর শেষ ছবির সাফল্য ভবিষ্যতের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা।
| প্রভাব ক্ষেত্র | পরিবর্তন |
|---|---|
| সংগীত | আধুনিক ও লোকসংগীতের মেলবন্ধন |
| গল্প বলার ধরণ | ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক গল্পের গুরুত্ব |
| প্রযোজনা মান | উন্নত প্রযুক্তি ও বাজেট |
| দর্শক আকর্ষণ | অসমীয়া ছবির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি |
‘রই রই বিনালে’ যেন একটি নতুন যুগের সূচনা।
উপসংহার
“গোল্ডি, তোমাকে খুব মিস করছি” — গরিমা সাইকিয়া গার্গের এই বার্তা শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং অসমের প্রতিটি হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। ‘রই রই বিনালে’ ছবির মুক্তি জুবিন গার্গের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং তাঁর শিল্পীসত্ত্বার উদযাপন। অসমজুড়ে ভক্তদের আবেগ, গরিমার প্রতিশ্রুতি, এবং ছবির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এই মুহূর্তকে ইতিহাসে স্থান করে দিচ্ছে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদসূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত। এটি ব্যক্তিগত মতামত নয় এবং শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য।
