নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পরবর্তী পর্যায়ে বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
বিধাননগর কলেজে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম ও ব্যালট বক্স রাখা হয়েছে। স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত দুই দিন ধরেই এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা ফুটপাতে ক্যাম্প তৈরি করলে তৃণমূল কর্মীরা সেখানে নিজেদের পতাকা লাগিয়ে দেয় এবং পাল্টা ক্যাম্প স্থাপন করে। এই ঘটনা থেকেই মূল উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়।
রাজনৈতিক তরজা ও পালটা অভিযোগ
বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া এবং তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বিজেপির দাবি, তারা নিয়ম মেনে পুলিশকে জানিয়েই ক্যাম্প করেছিল, কিন্তু তৃণমূল জোরপূর্বক সেখানে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, স্ট্রংরুমের বাইরে কেবল বিজেপির ক্যাম্প থাকবে, এটি হতে পারে না। এছাড়া, তৃণমূল সমর্থকদের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে, যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
শুধুমাত্র বিধাননগর নয়, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের স্ট্রংরুমগুলো নিয়েও গত কয়েক দিনে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। পোস্টাল ব্যালট বক্স আনা ও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মতে, এই ধরনের অভিযোগ কেবল মাঠ গরম করার কৌশল মাত্র।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত
ভোট গণনার ঠিক আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের সংঘাত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। নির্বাচন কমিশনকে এখন প্রতিটি স্ট্রংরুমের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই অনমনীয় মনোভাব এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণহীনতা আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বাড়তি নজরদারি চালায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।