নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সম্পূর্ণ ভোট বাতিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ২১ মে পুনরায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হলেও ফলতার ভাগ্য নির্ধারণ হবে দেরিতে।
নির্বাচন কমিশনের তদন্ত ও প্রেক্ষাপট
ফলতা কেন্দ্রে ভোট চলাকালীন ইভিএম মেশিনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এরপরই সক্রিয় হয় কমিশন এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে ডায়মন্ড হারবারে পাঠানো হয়। কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ফলতার ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬৮টি বুথে অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ বুথে ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুতর বেনিয়ম হয়েছে।
কারচুপির প্রমাণ ও কমিশনের পর্যবেক্ষণ
কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ৭টি বুথে ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক বুথে নিয়মবহির্ভূতভাবে একাধিক ব্যক্তি প্রবেশ করেছে এবং ১৩টি বুথের ফুটেজে গরমিল লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়াই যায়নি, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্তটি রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি দাবি করেছেন, তার ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ দমানোর জন্য বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একজোট হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না।’ অভিষেক সরাসরি বিজেপিকে ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি করেছে। একদিকে কমিশন যখন নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে। এই ঘটনাটি আসন্ন গণনায় প্রভাব ফেলবে কি না বা ভবিষ্যতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী ২১ মে ফলতার মানুষ কীভাবে ভোট দেন এবং তার ফলাফল কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা রাজ্য।