Headlines

ফলতায় ভোট বাতিল: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

ফলতায় ভোট বাতিল: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া Photo by CP Khanal on Pexels

ফলতায় ভোট বাতিল, উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সোমবার ২৯৩টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হলেও ফলতা বাদে বাকি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আপাতত ঝুলে রইল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কমিশনের পদক্ষেপ

ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। বিশেষ করে ভোট চলাকালীন ইভিএমে কারচুপির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সরেজমিনে তদন্ত করেন এবং তার রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভার মোট ২৮৫টি বুথের মধ্যে ৬৮টি বুথে অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সাতটি বুথে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং অনেক বুথে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব অথবা অস্পষ্ট। এছাড়া, সিসিটিভি ফুটেজে একাধিক বুথে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের প্রমাণ মেলায় কমিশন গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কার

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না।’ তিনি কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, দিল্লি থেকে শক্তিশালী কাউকে পাঠিয়ে ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, যা তার এই মডেলের প্রতি অটল বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ফলতায় পুনর্নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে বিরোধী দল বিজেপি একে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২১ মে নতুন করে ভোটগ্রহণের পর ফলতার জনরায় কোন দিকে মোড় নেয় এবং ২৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফলে এর প্রভাব কতটা পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *