ভোট গণনায় বিশেষ রণকৌশল তৃণমূলের, ব্যারাকপুর ও দমদমে নজরদারিতে রাজীব কুমার
আগামী সোমবার রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে প্রাক্তন ডিজিপি ও রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে ব্যারাকপুর এবং দমদম লোকসভা কেন্দ্রের ভোট গণনায় বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভোটের ফলাফলের প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গণনা কৌশলে জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে ভোট গণনার দিন প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারি রাখার পরিকল্পনা করেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে রাজীব কুমার ছাড়াও সৌগত রায় ও পার্থ ভৌমিকের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
নেতৃত্বের সরাসরি তদারকি
রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দলীয় নেতাদের দায়িত্ব প্রদানের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য নেতৃত্বের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা। হুগলিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়ায় পুলক রায় এবং উত্তর কলকাতার দায়িত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে নিযুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের হাতে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা
ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এজেন্টদের ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বাইরের খাবার গ্রহণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এছাড়া, ইভিএম কারচুপি বা গণনায় গড়িমসির সম্ভাবনা থাকলে তাৎক্ষণিক পুনর্গণনার দাবি জানানোর জন্য এজেন্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই গণনাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা স্লো কাউন্টিংয়ের মতো ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নেতৃত্বকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এবারের নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে তাদের দল। এই দাবিকে ভিত্তি করে গণনার দিন কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে তারা বদ্ধপরিকর। পর্যবেক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা এবং এজেন্টদের প্রতি কঠোর নির্দেশিকা নির্দেশ দেয় যে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিনে তীব্র লড়াই ও উত্তেজনার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে গণনাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইসিআই-এর নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালিত হয় কি না তার দিকে।