Headlines

ভোট গণনায় রাজীব কুমারের ওপর বিশেষ আস্থা তৃণমূলের

ভোট গণনায় রাজীব কুমারের ওপর বিশেষ আস্থা তৃণমূলের Photo by Edmond Dantès on Pexels

ভোট গণনায় বিশেষ নজরদারি

আসন্ন ৪ মে সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোট গণনার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি এবং তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যারাকপুর ও দমদম লোকসভা কেন্দ্রের ভোট গণনার সময় তিনি পর্যবেক্ষক হিসেবে দলের হয়ে নজরদারি চালাবেন। নির্বাচনের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে দলের কৌশল সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কৌশলী পদক্ষেপ ও সাংগঠনিক বিন্যাস

ভোট গণনার আগে শনিবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কাউন্টিং এজেন্টদের সাথে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এই বৈঠকে এজেন্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছে।

নেতৃত্বের বণ্টন ও জেলাভিত্তিক দায়িত্ব

শুধুমাত্র রাজীব কুমারই নন, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাকে আলাদা আলাদা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুগলির দায়িত্বে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়ায় পুলক রায় এবং দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্বে অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার সার্বিক তদারকির দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রেখেছেন। উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের ওপর আস্থা রেখেছে দল।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা

ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি এজেন্টদের সকাল ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বাইরের খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইভিএম হ্যাকিং বা গণনায় ধীরগতির মতো সম্ভাব্য কারচুপির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম নজরে এলে দ্রুত পুনর্গণনার দাবি জানানোর জন্য এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ

তৃণমূল নেতৃত্বের এই জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের কৌশল মূলত গণনাকেন্দ্রে সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার একটি মাধ্যম। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন কোনো প্রকার লোডশেডিং বা প্রযুক্তিগত কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে দল যে অত্যন্ত সচেতন, তা এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, ৪ মে গণনার দিন এই বিশেষ নজরদারি কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং নির্বাচনী ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *