Headlines

এআই অ্যাপের মাধ্যমে নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ: কাঠগড়ায় গুগল ও অ্যাপল

এআই অ্যাপের মাধ্যমে নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ: কাঠগড়ায় গুগল ও অ্যাপল Photo by Jakub Zerdzicki on Pexels

এআই অ্যাপের মাধ্যমে নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ: কাঠগড়ায় গুগল ও অ্যাপল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়াই ছবিকে বিবস্ত্র বা নগ্ন করার অ্যাপগুলো গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এখনো অবাধে পাওয়া যাচ্ছে। ‘টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট’-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কঠোর নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এই দুই টেক জায়ান্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে আপত্তিজনক অ্যাপগুলোর উপস্থিতি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

নীতিমালা ও বাস্তবতার ফারাক

গুগল এবং অ্যাপল উভয়েরই নিজস্ব কঠোর নীতিমালা রয়েছে, যা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বা অন্যকে হেনস্থা করে এমন অ্যাপ প্রচার নিষিদ্ধ করে। তবুও, ‘নিউডিফাই’ (Nudify) বা ‘আনড্রেস’ (Undress) লিখে সার্চ করলে ব্যবহারকারীরা সহজেই এই ধরনের এআই টুলগুলো খুঁজে পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলোকে ‘কমেডি’ বা ‘এন্টারটেইনমেন্ট’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করে প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোরের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিপুল জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মুনাফা

অ্যাপম্যাজিকের মতো ডেটা ইন্টেলিজেন্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের বিতর্কিত অ্যাপগুলো এ পর্যন্ত প্রায় ৪৮৩ মিলিয়ন বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ডেভেলপাররা প্রায় ১২২ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি পরিবর্তনের সহজলভ্যতাই নয়, বরং এর বাণিজ্যিক লাভজনকতাও এই অ্যাপগুলোর বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে।

গবেষকদের উদ্বেগ ও কোম্পানির অবস্থান

টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের পরিচালক কেটি পল অভিযোগ করেছেন যে, কোম্পানিগুলো কেবল এই অ্যাপগুলো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে না, বরং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের এই অ্যাপগুলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের পর গুগল ও অ্যাপল কিছু অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে, কিন্তু গবেষকরা বলছেন যে, অ্যাপ স্টোরগুলোতে এই ধরনের অ্যাপের নতুন সংস্করণ প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। এই বিষয়টি ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নজরদারি

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য কোম্পানিগুলোকে তাদের পলিসি সংশোধন করার পাশাপাশি আরও শক্তিশালী ফিল্টারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আগামী দিনে এআই প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুগল ও অ্যাপলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে তাদের সার্চ অ্যালগরিদম ও অ্যাপ রিভিউ প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে, সেদিকেই নজর থাকবে বিশ্ববাসীর। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় সরকারি আইনি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *