Headlines

সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন: সাসপেন্ড কালীঘাট থানার ওসি, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন: সাসপেন্ড কালীঘাট থানার ওসি, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক Photo by Kindel Media on Pexels

সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করার দায়ে কলকাতা পুলিশের কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্বাচনী আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। লালবাজারের নির্দেশে তাঁর পরিবর্তে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক

কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘নতুন অ্যাসাইনমেন্টের জন্য তৈরি’। এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয় যে, একজন পুলিশ আধিকারিকের এহেন আচরণ আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং ভোটারদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে পারে।

প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও গাইডলাইন

লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রতিটি কর্মীকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে চলতে হয়। কর্তব্যরত অবস্থায় ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় এ ধরনের ছবি তোলা বা পোস্ট করা কলকাতা পুলিশের শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ওই অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং তিনি এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারে কতটা প্রশিক্ষিত, তা নিয়েও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা নিয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, আইন রক্ষকদের আইনের গণ্ডির মধ্যেই কাজ করা উচিত। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আইন রক্ষকের কাজ ছবি তোলার জন্য পোজ দেওয়া নয়, বরং আইন রক্ষা করা। গণতন্ত্রের ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলেই তিনি মন্তব্য করেন।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা

এই ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের বার্তা দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন পর্বে কোনো পুলিশ আধিকারিক যদি পেশাদারিত্ব বজায় না রেখে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত কোনো বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেন, তবে তার বিরুদ্ধে যে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এই সাসপেনশনের মাধ্যমে স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, কলকাতা পুলিশ ভবিষ্যতে তাদের কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কতটা কড়াকড়ি আরোপ করে এবং এই ধরনের ঘটনা রোধে কী নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *