পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনায় সকাল ৮টায় প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং সাড়ে ৮টা থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (EVM) ভোট গণনা শুরু হবে। এই গণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে রাজ্যজুড়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গণনা প্রক্রিয়ার বিন্যাস ও নিরাপত্তা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের গণনায় চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৭ রাউন্ড ভোট গণনা হবে। এর বিপরীতে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম ও বীজপুর কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ১০ রাউন্ডে গণনা সম্পন্ন হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার এবং ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র কিউআর কোড ভিত্তিক পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। কোনোভাবেই মোবাইল ফোন নিয়ে গণনাকক্ষের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। পুলিশ অবজার্ভাররা কেন্দ্রের বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও, গণনাকক্ষের ভেতরে তাদের প্রবেশের অধিকার থাকবে না।
রেকর্ড ভোটদানের পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের এই নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড গড়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় ভোটার সংখ্যা ৫১ লক্ষ কমলেও, এবার প্রায় ৩১ লক্ষ ভোট বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে গড়ে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ২০২১ সালের ৮২ শতাংশের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
প্রথম দফায় ১৬টি জেলায় ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ২১.৫ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৭টি জেলায় ৯.৫ লক্ষ ভোট বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। মোট ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা গতবারের ৬ কোটি ৩ লক্ষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
শিল্প ও জনজীবনে প্রভাব
এই বিপুল ভোটদানের হার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে প্রবল সচেতনতা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে। রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভাগ্য আজ নির্ধারিত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক নীতি ও উন্নয়নের গতিপ্রকৃতিতে। ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্যতিত রাজ্যজুড়েই আজ নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে।
ভোটগণনার এই ধারা কোন দিকে মোড় নেয় এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে যায়, তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজর এখন কাউন্টিং সেন্টারের দিকে। ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হয়, তা এখন দেখার মূল বিষয়।